‘আমরা একটি মসজিদও চাই না’, প্রতিবাদে জাপানের রাজপথে হাজারো মানুষ
মেলবোর্ন, ১৫ এপ্রিল- জাপানের উপকূলবর্তী শহর ফুজিসাওয়া-এ একটি প্রস্তাবিত মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই ইস্যুকে ঘিরে কয়েক হাজার স্থানীয় বাসিন্দা রাস্তায়…
মেলবোর্ন, ১৫ এপ্রিল- ময়মনসিংহের ভালুকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত দিপু চন্দ্র দাস হত্যা মামলায় অন্যতম আসামি মো. মাসুম হাইকোর্ট থেকে এক বছরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন। চলতি বছরের ৬ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ জামিন আদেশ দেন। পরে ১৩ এপ্রিল ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জামিননামা ইস্যু করা হয়। আলোচিত এই মামলার আসামির দ্রুত জামিন পাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে নানা প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ এবং বিচারপতি সৈয়দ হাসান জোবায়ের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার আওতায় করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মো. মাসুমকে এক বছরের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, জামিনপ্রাপ্ত মো. মাসুম খালাসী মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার বাহাদুরপুর গ্রামের মো. চাঁন মিয়া খালাসীর ছেলে। তিনি গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর ভালুকা মডেল থানায় দায়ের করা দিপু চন্দ্র দাস হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন।
এ মামলায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৯, ৩০২, ২০১, ২৯৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে হত্যাকাণ্ড, দাঙ্গা-হাঙ্গামা এবং লাশ গুমের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

হাইকোর্টের আদেশের পর ১৩ এপ্রিল ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দুই হাজার টাকার মুচলেকায় জামিননামা গ্রহণ করে তার মুক্তির আদেশ দেন। স্থানীয় জামিনদার হিসেবে স্বাক্ষর করেন আসামির পিতা মো. চাঁন মিয়া খালাসী।
পুলিশ সূত্র জানায়, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডটি বর্তমানে জেলা গোয়েন্দা শাখা তদন্ত করছে। এ পর্যন্ত মোট ২৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একইসঙ্গে জামিন পাওয়া মো. মাসুমও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এমন একজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া আসামির দ্রুত জামিন পাওয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করার পর এভাবে জামিন পাওয়া বিচারপ্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং অন্যান্য আসামিরাও একইভাবে আইনি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকেও জামিন আদেশ নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
দিপু চন্দ্র দাসের ভাই অপু রবি দাস বলেন, একজন আসামি যিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, তার এভাবে জামিন পাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। এতে সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার আস্থা কমে যায়। তিনি এই জামিনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভালুকার জামিরদিয়া এলাকার পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড কারখানায় কর্মচারীদের উত্তেজিত করে দিপু চন্দ্র দাসকে পদত্যাগে চাপ দেওয়া এবং পরবর্তীতে তাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au