খর্বশক্তির নিউজিল্যান্ডের কাছেই হেরে গেল বাংলাদেশ
মেলবোর্ন, ১৮ এপ্রিল- মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে অপ্রত্যাশিত হারে শুরু করেছে বাংলাদেশ। শীর্ষ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ছাড়া দল…
মেলবোর্ন, ১৫ এপ্রিল- অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গণপিটুনি বা মব সহিংসতার মতো ঘটনাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, এর ফলে সমাজে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার একটি বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা এখন নিয়ন্ত্রণে আনতে বর্তমান সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) তথ্য অধিদপ্তর-এর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ব্রিফিংয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো অবস্থাতেই গণপিটুনি বা মব জাস্টিস মেনে নেওয়া হবে না। অপরাধী যত বড়ই হোক না কেন, তাকে শাস্তি দেওয়ার একমাত্র ক্ষমতা রাষ্ট্রের। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে এই ক্ষমতা নেই। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া সমাজে অরাজকতা সৃষ্টি করে এবং এটি সম্পূর্ণরূপে দণ্ডনীয় অপরাধ।
তিনি আরও বলেন, অতীতে কিছু সময় এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে নীরবে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, কোনো অভিযোগ উঠলেই তাৎক্ষণিকভাবে নিজেরাই বিচার করে শাস্তি দেওয়া যায়। এই মানসিকতা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং তা থেকে সমাজকে বেরিয়ে আসতে হবে বলে তিনি জোর দেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কেউ গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হলেও তাকে পিটিয়ে হত্যা করা তো দূরের কথা, শারীরিকভাবে আঘাত করাও আইনসম্মত নয়। আইন অনুযায়ী তদন্ত, বিচার এবং শাস্তি দেওয়ার একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে, যা অনুসরণ করতেই হবে।
তিনি স্বীকার করেন, কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দুর্বলতা থাকতে পারে। তবে এসব দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিকল্পিত বা সংগঠিত সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত হলেও তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে, কোনোভাবেই গণপিটুনির মাধ্যমে নয়।
তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা পরিহার করতে হবে এবং যেকোনো অভিযোগ বা অপরাধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা রাখতে হবে। তাহলেই একটি শান্তিপূর্ণ ও আইনের শাসনভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au