বাংলাদেশ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মবকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে : ডা. জাহেদ

  • 6:15 pm - April 15, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৩৩৪ বার
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৫ এপ্রিল- অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গণপিটুনি বা মব সহিংসতার মতো ঘটনাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, এর ফলে সমাজে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার একটি বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা এখন নিয়ন্ত্রণে আনতে বর্তমান সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) তথ্য অধিদপ্তর-এর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ব্রিফিংয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো অবস্থাতেই গণপিটুনি বা মব জাস্টিস মেনে নেওয়া হবে না। অপরাধী যত বড়ই হোক না কেন, তাকে শাস্তি দেওয়ার একমাত্র ক্ষমতা রাষ্ট্রের। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে এই ক্ষমতা নেই। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া সমাজে অরাজকতা সৃষ্টি করে এবং এটি সম্পূর্ণরূপে দণ্ডনীয় অপরাধ।

তিনি আরও বলেন, অতীতে কিছু সময় এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে নীরবে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, কোনো অভিযোগ উঠলেই তাৎক্ষণিকভাবে নিজেরাই বিচার করে শাস্তি দেওয়া যায়। এই মানসিকতা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং তা থেকে সমাজকে বেরিয়ে আসতে হবে বলে তিনি জোর দেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কেউ গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হলেও তাকে পিটিয়ে হত্যা করা তো দূরের কথা, শারীরিকভাবে আঘাত করাও আইনসম্মত নয়। আইন অনুযায়ী তদন্ত, বিচার এবং শাস্তি দেওয়ার একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে, যা অনুসরণ করতেই হবে।

তিনি স্বীকার করেন, কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দুর্বলতা থাকতে পারে। তবে এসব দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিকল্পিত বা সংগঠিত সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত হলেও তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে, কোনোভাবেই গণপিটুনির মাধ্যমে নয়।

তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা পরিহার করতে হবে এবং যেকোনো অভিযোগ বা অপরাধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা রাখতে হবে। তাহলেই একটি শান্তিপূর্ণ ও আইনের শাসনভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এই শাখার আরও খবর

রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?

সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…

ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা

হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…

সিডনি ও পার্থে বিএইচএসএএ’র শারদীয় পূজা পরিক্রমা সম্পন্ন

শতদল তালুকদার, সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও পার্থে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশি হিন্দু শিক্ষার্থীদের সংগঠন বিএইচএসএএ’র (BHSAA) শারদীয় দুর্গাপূজা পরিক্রমা। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য…

মহানবমী আজ, কাল প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসব

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)। দিনভর নানা ধর্মীয় আচার, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত…

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ঝরল ১০ প্রাণ, আহত আরও ২০

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: নাটোরের বড়াইগ্রামে ভোরের আলো ফোটার আগেই সড়কে ঝরল ১০ প্রাণ। যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ জন।…

‘আমি ভয় পাই না’, ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা আবারও বললেন শেখ হাসিনা

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা আবারও জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার, নির্যাতন কিংবা হত্যার শিকার হতে পারেন বলে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au