দুই মাসেও জ্বালানি তেলের সমস্যা হবে না: জ্বালানি মন্ত্রণালয়
মেলবোর্ন, ১৬ এপ্রিল- দেশে বিদ্যমান জ্বালানি তেলের মজুত দিয়ে আগামী দুই মাস পর্যন্ত কোনো সংকট তৈরি হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।…
মেলবোর্ন, ১৫ এপ্রিল- পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের তউনসা শহরে হাসপাতালের অবহেলা ও অস্বাস্থ্যকর চিকিৎসা পদ্ধতির কারণে শতাধিক শিশু এইচআইভিতে আক্রান্ত হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বিবিসি-এর দীর্ঘ অনুসন্ধানে অন্তত ৩৩১ জন এইচআইভি পজিটিভ শিশুর তথ্য পাওয়া গেছে, যা দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সময় পুরনো ও দূষিত সিরিঞ্জ ব্যবহারের কারণেই এসব শিশু সংক্রমিত হয়েছে বলে অভিযোগ করছে পরিবারগুলো। আট বছরের মোহাম্মদ আমিনের মৃত্যুর পর তার বোন আসমার শরীরেও একই সংক্রমণ ধরা পড়ে, যা ঘটনাটির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে।
২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত চালানো অনুসন্ধানে দেখা যায়, তউনসার একটি সরকারি হাসপাতালে একই সিরিঞ্জ ও সুঁই একাধিক রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছিল। গোপনে ধারণ করা ৩২ ঘণ্টার ভিডিওতে অন্তত ১০ বার একই সিরিঞ্জ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এমনকি একই শিশি থেকে ওষুধ নিয়ে একাধিক শিশুকে ইনজেকশন দেওয়ার ঘটনাও ধরা পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুঁই পরিবর্তন করলেও সিরিঞ্জের ভেতরের অংশে ভাইরাস থেকে যেতে পারে, যা অন্য রোগীর শরীরে সহজেই সংক্রমণ ঘটাতে পারে। মাইক্রোবায়োলজিস্ট ড. আলতাফ আহমেদ এই ধরনের ব্যবস্থাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
এছাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের অনেককে গ্লাভস ছাড়াই চিকিৎসা দিতে এবং চিকিৎসা বর্জ্য খালি হাতে স্পর্শ করতে দেখা গেছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ভিডিওকে ‘সাজানো’ দাবি করেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের অর্ধেকেরও বেশি দূষিত সুঁই ব্যবহারের কারণে সংক্রমিত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মায়েদের পরীক্ষা করে দেখা গেছে, খুব কম সংখ্যক মা এইচআইভি পজিটিভ, ফলে জন্মগত সংক্রমণের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
একই ধরনের ঘটনা সিন্ধু প্রদেশের রাতোদরো এবং করাচির বিভিন্ন হাসপাতালেও ঘটেছে, যেখানে শতাধিক শিশু এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি, সচেতনতার অভাব এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার সংস্কৃতিই এই সংকটকে বাড়িয়ে তুলছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কঠোর নজরদারি ও নিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতি নিশ্চিত করা না হলে এই ধরনের সংক্রমণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au