মমতার গলার কাঁটা হয়ে ভোটের সাত দিন আগে দল ছাড়লেন বিদায়ী বিধায়ক
মেলবোর্ন, ১৭ এপ্রিল- সিপিআইএমের বিরুদ্ধে জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন- সেইবারও আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলকে হারাতে পারেনি তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১১ সালে…
মেলবোর্ন, ১৬ এপ্রিল- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘিরে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় কূটনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতাও জোরদার হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) পরিস্থিতি আরও আশাব্যঞ্জক হয়ে ওঠে, যখন জানা যায় পাকিস্তানের একজন গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী তেহরানে অবস্থান করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনও একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও উন্মুক্ত হতে পারে।
এর আগে বুধবার ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রতিবেশী লেবাননের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হয়। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে টানা ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। একই দিনে ট্রাম্প জানান, দুই দেশের নেতাদের মধ্যে বৃহস্পতিবার সরাসরি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। লেবাননের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শিগগিরই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, এই দুটি বিষয় ছিল বড় বাধা। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনা ‘ফলপ্রসূ’ এবং ‘অব্যাহত’ রয়েছে। তিনি জানান, দুই পক্ষের মধ্যে ৮ এপ্রিল যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তা বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অনুরোধ করেনি।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে তাদের শীর্ষ কর্মকর্তা তেহরানে পৌঁছেছেন এবং তিনি দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য কমানোর চেষ্টা করছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও এই সফরকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তেহরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ইরানের কেশম দ্বীপের কাছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাছ ধরার নৌকা ও পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজ চলাচল করছে,
ছবিঃ সংগৃহীত
গত সপ্তাহান্তের আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক অগ্রগতির আশায় আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ওয়াল স্ট্রিটে সূচক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তবুও অতীত অভিজ্ঞতায় অনেক বিনিয়োগকারী এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
এদিকে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের বন্দর ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করা হয়েছে এবং যেসব দেশ ইরানি তেল কিনবে, তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে চীনের দুটি ব্যাংককে ইরানের সঙ্গে লেনদেন না করার সতর্কবার্তা দিয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ইরানকে অস্ত্র না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত করার উদ্যোগে চীনও সন্তুষ্ট।
যুদ্ধের কারণে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দিয়েছে, যা বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় কোনো জাহাজ ইরানের বন্দর থেকে বের হতে পারেনি বলে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। তবে ইরানের একটি বার্তা সংস্থা দাবি করেছে, একটি তেলবাহী জাহাজ অবরোধ অতিক্রম করে ইমাম খোমেনি বন্দরের দিকে গেছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়েছে, অবরোধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি হলে ওমান অংশ দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প আবারও সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
শান্তি আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এখনো একটি বড় জটিলতা হিসেবে রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের জন্য ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছে, অন্যদিকে ইরান তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য তা বন্ধ রাখার কথা বলেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলছে, আর ইরান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পর্দার আড়ালের আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে এবং দুই পক্ষের অবস্থান কাছাকাছি এসেছে। ফলে নতুন করে আলোচনা শুরু হলে একটি সম্ভাব্য চুক্তির পথ আরও পরিষ্কার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au