মমতার গলার কাঁটা হয়ে ভোটের সাত দিন আগে দল ছাড়লেন বিদায়ী বিধায়ক
মেলবোর্ন, ১৭ এপ্রিল- সিপিআইএমের বিরুদ্ধে জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন- সেইবারও আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলকে হারাতে পারেনি তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১১ সালে…
মেলবোর্ন, ১৬ এপ্রিল- চট্টগ্রামে একটি মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস-কে জামিন দিয়েছেন আদালত। তবে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য গুরুতর মামলার কারণে এখনই মুক্তি মিলছে না বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাখাওয়াত হোসেন শুনানি শেষে এ জামিন আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যে মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস জামিন পেয়েছেন, সেটি দায়ের করেছিলেন সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। তিনি বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন-এর বাবা। মামলায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মেখল এলাকায় জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছিল। ২০২৩ সালে দায়ের করা এই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, মামলাটির তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রতিবেদন জমা দেয়। এর আগে চলতি মাসের ৭ এপ্রিল চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী কে পি শর্মা তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন, যা আদালত মঞ্জুর করেন। এরপর শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার তাঁকে জামিন দেওয়া হয়।
তবে এই জামিন সত্ত্বেও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনি জটিলতা শেষ হচ্ছে না। তাঁর বিরুদ্ধে আইনজীবী হত্যাসহ আরও ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার কারণে তিনি এখনই কারামুক্ত হতে পারছেন না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে দায়ের করা একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাঁর জামিনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম-কে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি পৃথক মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে হত্যা মামলাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হত্যা মামলায় গত বছরের ১ জুলাই পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। সেখানে বলা হয়, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের উসকানি ও নির্দেশে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়, পরে লাঠি, বাটাম ও ইটসহ বিভিন্ন বস্তু দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করে।
পরবর্তীতে গত ২৫ আগস্ট আদালত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। বর্তমানে ওই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সব মিলিয়ে, একটি মামলায় জামিন পেলেও একাধিক গুরুতর মামলার কারণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনি লড়াই এখনো দীর্ঘ হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au