যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ২য় দফায় আলোচনার সোমবার
মেলবোর্ন, ১৮ এপ্রিল- মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা আগামী সোমবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে।…
মেলবোর্ন, ১৮ এপ্রিল- মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক কূটনীতি, বাণিজ্য এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বৈশ্বিক শক্তিগুলো। প্রণালিটি আংশিকভাবে পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণার পরও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের নেতা ও বিশ্লেষকেরা। এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক উদ্যোগে অংশ নিতে প্রস্তুত, যাতে ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ ও স্বাভাবিক রাখা যায়।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় প্রবেশের পরিস্থিতি হলেও এটি এখনো অত্যন্ত ভঙ্গুর। প্রায় ৫০টি দেশের একটি আন্তর্জাতিক বৈঠকের পর তিনি এই মন্তব্য করেন, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি বলেন, এই জলপথ পুরোপুরি ও স্থায়ীভাবে সব দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকা দরকার, যাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নির্বিঘ্ন থাকে।
অ্যালবানিজ সিডনিতে সাংবাদিকদের বলেন, উত্তেজনা কমানোই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁর মতে, প্রণালিতে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ, টোল বা বেসরকারিকরণ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে হলে এই ভঙ্গুর সমঝোতাকে টিকিয়ে রাখতে হবে এবং জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এশিয়ার দেশগুলো এই সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে, কারণ বিশ্বজুড়ে হরমুজ দিয়ে যাওয়া তেলের বড় অংশই ওই অঞ্চলে যায়। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনো দেশ যদি এই ধরনের জলপথ বন্ধ করার দৃষ্টান্ত তৈরি করে, তাহলে তা বিশ্ব অর্থনীতির কাঠামোই বদলে দিতে পারে।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা , ছবিঃ সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগকে সমর্থন করবে। অ্যালবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়া হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার যেকোনো প্রচেষ্টায় পাশে থাকবে। তিনি নিশ্চিত করেন, লন্ডনে আগামী সপ্তাহে যে সামরিক পরিকল্পনা বৈঠক হবে, তাতে অস্ট্রেলিয়া অংশ নেবে এবং সেখানে সম্ভাব্য সামরিক ও নিরাপত্তা সহায়তা নিয়ে আলোচনা হবে।
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ জানিয়েছেন, তারা লন্ডনে একটি আন্তর্জাতিক সামরিক পরিকল্পনা বৈঠকের আয়োজন করছেন, যার লক্ষ্য হবে প্রণালিতে সমুদ্র নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার করা। তাদের মতে, এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক এবং শান্তিপূর্ণ উদ্যোগ হবে, যার মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা এবং মাইন অপসারণে সহায়তা দেওয়া হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্যোগ নিয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ন্যাটোকে এই পরিস্থিতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এখন যেহেতু প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তাই তাদের সহায়তার প্রয়োজন নেই। তিনি দাবি করেন, অতীতে যখন প্রয়োজন ছিল তখন কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি, এখন আর তা গ্রহণ করার দরকার নেই।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং জানিয়েছেন, তাদের অগ্রাধিকার এখন কূটনৈতিক সমাধান। তিনি বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে সামরিক নয়, বরং আলোচনাই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে ৬১টি জ্বালানি ট্যাঙ্কার অস্ট্রেলিয়ার পথে রয়েছে এবং দেশে প্রায় ৪৬ দিনের পেট্রোল মজুত আছে, যা আগের তুলনায় কিছুটা বেশি।
তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রণালি আংশিক খুলে দেওয়া হলেও সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে। তাদের মতে, প্রকৃত প্রভাব কমপক্ষে কয়েক সপ্তাহ পরে বাজারে দেখা যাবে এবং জ্বালানি দাম তাৎক্ষণিকভাবে কমার সম্ভাবনা নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই টানাপোড়েন এখন শুধু সামরিক বা কূটনৈতিক ইস্যু নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে।
সূত্রঃ এএনআই
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au