লোকসভায় নারী সংরক্ষণ ও আসন বৃদ্ধির বিল পাসে ব্যর্থ মোদী সরকার
মেলবোর্বন। ১৮ এপ্রিল- ভারতের লোকসভায় নারী সংরক্ষণ ও আসন বৃদ্ধি–সংক্রান্ত বহুল আলোচিত সংবিধান সংশোধনী বিল শেষ পর্যন্ত পাস করাতে ব্যর্থ হয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। সংখ্যাগরিষ্ঠতা…
মেলবোর্ন, ১৮ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ইস্যুতে “কিছুটা ভালো খবর” পাওয়া গেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ থামাতে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে বলে তিনি আশাবাদী। তবে তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন, আগামী বুধবারের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না হলে চলমান যুদ্ধবিরতি বাড়ানো নাও হতে পারে।
শুক্রবার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরান নিয়ে আলোচনা “খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে”, কিন্তু তিনি কী ধরনের ভালো খবর পেয়েছেন তা স্পষ্ট করেননি।
তিনি আরও জানান, “আমরা সপ্তাহান্তে আলোচনা করছি। অনেক বিষয়ই ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা যাবে না।”
এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইরান হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এটি মূলত ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া আলাদা একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে বলা হয়।

দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে কার্যত অবরুদ্ধ রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি , ছবি: সংগৃহীত
তবে এরপর দুই পক্ষের একাধিক ভিন্ন বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, তাই এর বন্ধ বা আংশিক বন্ধ থাকার প্রভাব সরাসরি বিশ্ববাজারে পড়েছে।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, বুধবারের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি না হলে তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাতিল করতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
এদিকে যুদ্ধ শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে। এরপর থেকে সংঘাতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং তেল সরবরাহ সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হতে পারে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এই বৈঠক আয়োজনের সম্ভাবনা থাকলেও লজিস্টিক জটিলতার কারণে তা অনিশ্চিত।
ইসলামাবাদে গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সম্প্রতি তেহরানে কূটনৈতিক আলোচনা করেছেন, যা মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনায় একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক এবং পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা থাকবে না।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ চললে হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে না।”
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির সময়কাল পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালি খোলা থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ছবিঃ সংগৃহীত
ভেসেল ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার কয়েক ডজন জাহাজ হরমুজ প্রণালির দিকে এগোলেও পরে অনেকগুলোই ফিরে যায়। কেন তারা ফিরে গেছে, তা পরিষ্কার নয়। তবে ডুবাই থেকে ওমানের দিকে একটি ক্রুজ জাহাজ সফলভাবে প্রণালি পার হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরান জানিয়েছে, এখন থেকে সব জাহাজকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে চলাচল করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সম্পর্কিত জাহাজকে এখনো নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত সরিয়ে নেওয়া হোক। তবে ইরান বলছে, তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি বজায় রাখার অধিকার রয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজ দেশে নিয়ে যেতে পারে। তবে ইরান জানিয়েছে, এটি অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হবে না।
তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনায় শুক্রবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায়। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
ব্রিটেন জানিয়েছে, প্রণালি নিরাপদ রাখতে ভবিষ্যতে একটি আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা মিশন গঠন করা হতে পারে, যেখানে একাধিক দেশ অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
একদিকে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলছে, অন্যদিকে ইরান বলছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো বড় মতভেদ রয়ে গেছে।
ইরানের ধর্মীয় নেতারা শুক্রবারের নামাজে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। একজন ধর্মীয় নেতা আহমাদ খাতামি বলেছেন, “অপমানজনক অবস্থায় থেকে আমাদের জনগণ কোনো আলোচনা করবে না।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au