ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ যেভাবে চাপে ফেলেছে ট্রাম্পকে
মেলবোর্ন, ১৮ এপ্রিল- ইরানকে ঘিরে শক্ত অবস্থান নিয়ে সামরিক অভিযান শুরু করলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এক ভিন্ন বাস্তবতায় পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের প্রভাব এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে…
মেলবোর্ন, ১৮ এপ্রিল- মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা আগামী সোমবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুই দেশের প্রতিনিধিদল রোববারের মধ্যেই ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারে।
এই বৈঠককে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে, যা অঞ্চলটিতে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা এবার আরও গুরুত্ব পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধান এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন।
কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় দেশটির উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে। তুরস্কও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে।
এই বৈঠকগুলো তুরস্কে অনুষ্ঠিত আন্তালিয়া কূটনৈতিক ফোরামের ফাঁকে অনুষ্ঠিত হয়।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র , ছবিঃ সংগৃহীত
এরই মধ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরানে গিয়ে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল স্থবির হয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন দফার আলোচনার ভিত্তি তৈরি করা।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আনতে পারে।
গত ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর প্রথম উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠক। তবে সেই আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
৩৯ দিনব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য থাকায় অগ্রগতি সম্ভব হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন। এই পদক্ষেপকে বৃহত্তর শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত সম্প্রতি তীব্র আকার ধারণ করে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার “গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ” আলোচনা হয়েছে। তাদের সম্মতিতেই এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে এই নতুন দফার আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এই সংলাপের ফলাফল বিশ্ব রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে আগের অভিজ্ঞতা বলছে, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে সমঝোতা অর্জন সহজ হবে না। তবুও কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকায় একটি সম্ভাব্য সমাধানের আশা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au