স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের সতর্ক করলো মার্কিন দূতাবাস
মেলবোর্ন, ১৯ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ঢাকা। স্টুডেন্ট ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে তাৎক্ষণিকভাবে ভিসা বাতিলের পাশাপাশি…
মেলবোর্ন, ১৯ এপ্রিল- দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকার সরকারি ঘোষণার পরও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন, ভোগান্তি এবং খোলাবাজারে চড়া দামে তেল বিক্রির অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। সরকার যেখানে বলছে ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিশোধিত জ্বালানি মজুত রয়েছে, সেখানে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক।
জ্বালানি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, ফার্নেস অয়েল ও জেট ফুয়েলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ১৫ এপ্রিলের হিসাব অনুযায়ী, ডিজেল মজুত রয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন, অকটেন ৩১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন, পেট্রোল ১৮ হাজার ২১১ মেট্রিক টন, ফার্নেস অয়েল ৭৭ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন এবং জেট ফুয়েল ১৮ হাজার ২২৩ মেট্রিক টন। পাশাপাশি একাধিক জাহাজে আমদানিকৃত জ্বালানি দেশে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।

পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ থাকার কথা বলছে সরকার ,ছবি: সংগৃহীত
এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দাবি করেছেন, বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং এপ্রিল ও মে মাসের চাহিদা পূরণে কোনো সংকট নেই।
তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দেশের বিভিন্ন জেলায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে যানবাহন চালকদের। অভিযোগ উঠেছে, অনেক জায়গায় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পেয়ে খোলাবাজার থেকে দ্বিগুণ বা তিনগুণ দামে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন মানুষ।
বাগেরহাটের বাসিন্দা প্রহ্লাদ দে বলেন, কিছু অসাধু চক্র এই পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে। তার অভিযোগ, কিছু লোক পাম্প থেকে তেল নিয়ে গ্রামে গিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে। মাগুরার মোটরসাইকেল চালক আবু সাঈদ রাজিব বলেন, পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা নেই এবং নজরদারির ঘাটতি রয়েছে।
রাজশাহীর আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষদের দুর্ভোগ বাড়ছে, অথচ প্রভাবশালীরা সহজেই তেল সংগ্রহ করছে। তার মতে, মাঠপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর নয়।
সরকার অবশ্য জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত, ট্যাগ অফিসার নিয়োগ এবং নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহে হাজারো অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মজুত জব্দ এবং জরিমানা করা হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মজুত থাকা যথেষ্ট নয়, বরং বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা তৈরি করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ মনে করেন, সরকার পরিস্থিতি অনুযায়ী কার্যকরভাবে জনআস্থা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেন, স্বাভাবিক অবস্থায় এমন অস্থিরতা তৈরি হওয়ার কথা নয়। তার মতে, ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতি এবং তথ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা, অন্যদিকে অবৈধ মজুত ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সক্রিয়তা-এই তিনটি বিষয় মিলেই জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। তারা বলছেন, শুধুমাত্র মজুত নয়, বরং কার্যকর মনিটরিং, স্বচ্ছ তথ্য প্রবাহ এবং কঠোর বাজার নিয়ন্ত্রণ এখন জরুরি।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au