আইভীর মুক্তি: আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনের ইঙ্গিত নাকি নতুন সমীকরণ?
মেলবোর্ন, ৬ জুন- বিএনপি সরকার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে কেন জামিন দিলো? হ্যাঁ, বাংলাদেশে আদালত জামিন দেয় না, জামিন দেয় যারা সরকারে থাকে। তো, আইভীকে কেন…
মেলবোর্ন, ১৯ এপ্রিল- দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির চেয়েও বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক চুক্তি। শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে হরমুজ প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে অভ্যন্তরীণ নীতিগত ও চুক্তিভিত্তিক সীমাবদ্ধতা। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি আমদানির ব্যয়, সরবরাহ এবং নীতিনির্ধারণ—সবকিছুতেই এই চুক্তির প্রভাব পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের ভুল নীতির কারণে আমদানিনির্ভরতা বেড়েছে। অতীতে নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে শক্তিশালী করা হয়নি। ফলে এখন দেশকে বেশি দামে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝোঁকার পরামর্শ দেন। তার ভাষায়, উত্তরণকালীন সময়ে গ্রীন এনার্জির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন এবং এর প্রতিফলন আগামী জাতীয় বাজেটে থাকতে হবে। পাশাপাশি সমুদ্র থেকে জ্বালানি অনুসন্ধান এবং বাপেক্সকে সক্রিয় করার ওপরও জোর দেন তিনি।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ঘাটতি না থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবে সেই সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এর পেছনে কায়েমী স্বার্থ ও নীতিগত দুর্বলতাকে দায়ী করেন তিনি।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ থেকে নতুন ঋণ পেতে হলে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। তার মতে, আগামী সময়ে সরকারের অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রয়োজন হতে পারে।
কর ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, করের হার কমিয়ে করদাতার সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং জনগণকে করের বিপরীতে সেবা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি পুনর্বিবেচনা এবং সাশ্রয়ী মূল্যে আমদানির কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, যদি কেবিনেট সাব-কমিটির উদ্যোগেও পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে সেই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে ভাবতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো জনসমক্ষে আরও স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি খাতে কাঠামোগত সংস্কার, স্বচ্ছ নীতি এবং বিকল্প জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়া ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট কাটানো কঠিন হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au