কোন উদ্দেশ্যে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করলেন বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান
মেলবোর্ন, ২০ এপ্রিল- সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক…
মেলবোর্ন, ২০ এপ্রিল- দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আগের সরাসরি নিয়োগ পরিকল্পনা থেকে সরে এসে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে একটি প্রশিক্ষক প্যানেলের মাধ্যমে, যা তৈরি করবে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
রোববার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে দুই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মোট ১৯টি বিষয়ে আলোচনা হয়, যার মধ্যে অন্যতম ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক শিক্ষক নিয়োগ।
বৈঠক শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, সংগীত শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এখন আর সরাসরি নিয়োগ হবে না। বরং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি সংগীত প্রশিক্ষকের প্যানেল তৈরি করবে। সেই প্যানেল থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে স্কুলগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, এসব শিক্ষকদের স্থায়ী নাকি অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় নেবে। তবে তাদের বেতন, সুযোগ-সুবিধা এবং প্রশাসনিক বিষয়গুলোও ওই মন্ত্রণালয় তদারকি করবে।
অন্যদিকে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী আগেই জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে সংগীত শিক্ষা চালু করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তার প্রস্তাব অনুযায়ী সংগীত শিক্ষক নির্বাচন করবে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, আর বেতন-ভাতা দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
তবে সাম্প্রতিক বৈঠকে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এসেছে বলে জানা গেছে, যেখানে বেতন-ভাতা এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওপরই থাকবে।
মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী আরও বলেছিলেন, গুচ্ছভিত্তিক বা ক্লাস্টার পদ্ধতিতে সংগীত শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এই ব্যবস্থায় সংগীত প্রশিক্ষকেরা একটি উপজেলার বিভিন্ন স্কুলে ঘুরে ঘুরে পাঠদান করবেন। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিস্তারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সরকারের পরিকল্পনায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজনের কথাও বলা হয়েছিল, যা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিযোগিতার আদলে পরিচালিত হওয়ার কথা।
সিদ্ধান্তে পরিবর্তনের পেছনের প্রেক্ষাপট
এর আগে ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। সেখানে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়।
তবে পরবর্তীতে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলনের মুখে সেই বিধিমালা সংশোধন করা হয়। সংশোধিত বিধিমালায় শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিষয় রাখা হয় এবং সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ বাদ দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তখন নানা আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী পরে মন্তব্য করেন, আগের ব্যবস্থায় অনেক সময় পর্যাপ্ত সংগীত শিক্ষক পাওয়া যেত না এবং তারা মূলত নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত ভালো হলেও কিছু সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন ছিল বলে তারা মনে করেন।
শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিক্রিয়া
এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা বলেন, সংগীত শিক্ষা ও শরীরচর্চা শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি মনে করেন, ইতিহাসের বিভিন্ন আন্দোলনেও সংগীত মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে, তাই এটিকে বাদ দেওয়া ঠিক হবে না।
বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকার এখন সংগীত শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে এনে একটি প্যানেলভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
সূত্রঃ ডি ডব্লিউ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au