কোন উদ্দেশ্যে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করলেন বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান
মেলবোর্ন, ২০ এপ্রিল- সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক…
মেলবোর্ন, ২০ এপ্রিল-মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক পদক্ষেপকে ঘিরে। ইরানের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ আটক করার দাবি করেছে ওয়াশিংটন, আর তেহরান এটিকে সরাসরি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও “সশস্ত্র জলদস্যুতা” বলে আখ্যা দিয়েছে। এই ঘটনার মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যা পুরো অঞ্চলজুড়ে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন নৌবাহিনী উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি ইরানের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ আটক করেছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া বার্তায় জানান, “তৌসকা” নামের প্রায় ৯০০ ফুট দীর্ঘ একটি জাহাজকে থামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জাহাজটি নির্দেশ অমান্য করায় সেটিকে জব্দ করা হয়।
তিনি দাবি করেন, জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল। পরে মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজটির ইঞ্জিনরুমে গুলি চালিয়ে সেটিকে থামিয়ে দেয় এবং বর্তমানে জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, জাহাজটি আগে থেকেই মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত ছিল এবং অতীতে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি জানান, জাহাজটির ভেতরে কী রয়েছে তা এখন পরীক্ষা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরান এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং যুদ্ধবিরতির বিরুদ্ধে “সশস্ত্র জলদস্যুতা” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, ইরান এই ঘটনার “উপযুক্ত জবাব” দেবে।
ইরানের সামরিক সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়ার এক মুখপাত্র অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ওমান সাগরে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে, এর নেভিগেশন সিস্টেম অচল করেছে এবং সামরিক বাহিনী জাহাজে প্রবেশ করেছে।

হরমুজ প্রণালি। ছবিঃ সংগৃহীত
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড পরে একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে একটি নৌযানকে জাহাজটি আটক করতে দেখা যায় এবং গুলির দৃশ্যও দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে।
এর আগে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স।
প্রতিনিধিদলে আরও থাকছেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনার। তবে ইরান এখনো ওই আলোচনায় অংশ নেবে কি না, তা নিশ্চিত করেনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকলে তারা কোনো আলোচনায় যাবে না।
ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে ঘোষণা দেয়, ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরে নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে। এই অবরোধের লক্ষ্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বিষয়টিও উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব তেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ হয়। ইরান দীর্ঘদিন ধরে এই প্রণালিকে কৌশলগত চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ।
ট্রাম্প এক বক্তব্যে বলেন, ইরান যেন তাদের ইচ্ছামতো দেশ বেছে নিয়ে তেল বিক্রি করতে না পারে, সেটিই তাদের নীতির লক্ষ্য।
কোন দিকে যাচ্ছে পরিস্থিতি
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আলোচনার পরবর্তী ধাপে প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে পৌঁছাবে, যেখানে দেশটি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
তবে একই সঙ্গে সামরিক উত্তেজনাও বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাহাজ আটক ও অবরোধ পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এদিকে ইরান কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।
চলমান উত্তেজনার সূচনা হয় চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর। এরপর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে সংঘাত চলার পর একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।
তবে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে মতপার্থক্য এখনো অমীমাংসিত।
বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী বুধবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au