বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২০ এপ্রিল- উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তুরস্কে অনুষ্ঠিত আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের ফাঁকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদেহের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ অনুরোধ জানান।
গতকাল রবিবার (১৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের অবস্থানকে “ধারাবাহিক ও ভারসাম্যপূর্ণ” হিসেবে তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সংকট নিরসনে সব পক্ষের সংযম, সংলাপ এবং কূটনৈতিক সমাধানই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
বৈঠকে তিনি বিশেষভাবে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষের সহায়তা চান। একই সঙ্গে তিনি জানান, অতীতে ইরান বাংলাদেশকে যেসব দেশের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছিল যাদের জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদেহ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আগ্রহ দেখান এবং জানান, বর্তমান পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হলেও ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট জাহাজগুলোর নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করা যায়।
বৈঠকে আরও জানা যায়, ইরানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানের প্রশংসা করা হয়। ইরানি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভবিষ্যতে সুবিধাজনক সময়ে তেহরান সফর করবেন, যা দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করবে।
এর আগে চলতি বছরের ৫ এপ্রিল ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদীর সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই ধরনের অনুরোধ করেছিলেন। তখন তিনি ‘বাংলার জয়যাত্রা’র পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলবাহী আরেকটি বাংলাদেশগামী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের বিষয়েও সহযোগিতা চান। ইরানি রাষ্ট্রদূত তখন জানান, বিষয়টি তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দেখছেন।
ওই বৈঠকে ইরানি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানের প্রশংসা করেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ঢাকার ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু সংক্রান্ত ঘটনায় বাংলাদেশের সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা শুধু অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্কের এই আলোচনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিরাপত্তার দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।