কঠোর নিরাপত্তা বিধিতে শ্রেণিকক্ষে ফিরল ইউএইর শিক্ষার্থীরা
মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল- আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে কয়েক সপ্তাহ দূরশিক্ষণের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে লাখো শিক্ষার্থী। সোমবার, ২০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে স্কুল,…
মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম। তিনি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন সময় অনুযায়ী বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে, তবে এর মধ্যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে পরিস্থিতি আবারও সামরিক সংঘাতের দিকে যেতে পারে।
বার্তা সংস্থা ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা তিনি খুব একটা দেখছেন না। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তড়িঘড়ি করে কোনো চুক্তি করতে তিনি রাজি নন। তার ভাষায়, খারাপ কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করার চেয়ে সময় নেওয়াই শ্রেয়। চুক্তি না হলে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সে সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
যুদ্ধবিরতির সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার আলোচনা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেননি। রয়টার্সকে একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনার পরিস্থিতি স্পষ্ট না হওয়ায় মার্কিন প্রতিনিধিদল এখনো রওনা দেয়নি। তবে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে খুব শিগগিরই ইসলামাবাদে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানও এখনও আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরান সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে বিবেচনা করছে, তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এর মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। সেখানে সম্ভাব্য আলোচনা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে পাকিস্তানের পথে রয়েছে এবং দ্রুত একটি চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। তিনি আরও বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলে তিনি ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করতেও প্রস্তুত। তবে আলোচনার মূল শর্ত হিসেবে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করতে হবে এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনার অগ্রগতি নেই। ছবিঃ সংগৃহীত
এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে উত্তেজনা থেমে নেই। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে যুদ্ধবিরতির পরও একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। হিজবুল্লাহর মিত্র ও দেশটির জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ আলি হাসান খলিল জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের অন্তত ৩৯টি গ্রামে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করেই এসব অভিযান পরিচালনা করছে। ইসরায়েলের ভাষ্যমতে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় তাদের বাহিনী এখনও সেখানে মোতায়েন রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান চালানো হচ্ছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, লেবাননের উচিত ছিল অননুমোদিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, যাতে তারা ইসরায়েলের ওপর হামলা চালাতে না পারে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রাশিয়া আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং পরিস্থিতি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে রূপ নেবে না। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি এখনও ভঙ্গুর এবং অনিশ্চিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির অবনতি এড়ানো সম্ভব হবে।
অন্যদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এর সঙ্গে ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক কূটনীতির নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, তেহরান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই ইস্যুতে উত্তেজনা রয়েছে। সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের এককভাবে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা সীমিত করতে আবারও ভোট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা উচিত। যদিও রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এই উদ্যোগ বারবার বাধার মুখে পড়ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে ইরানের পতাকাবাহী একটি জাহাজ ‘শুজা ২’। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, জাহাজটি বন্দর আব্বাস থেকে যাত্রা শুরু করে ভারতের কান্ডলা বন্দরের দিকে যাচ্ছে। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্যে দেখা গেছে, জাহাজটি বর্তমানে হরমুজ প্রণালির মধ্যেই অবস্থান করছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা, রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au