হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল বজায় রাখার আহ্বান শি জিনপিংয়ের
মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল- মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার সৌদি আরবের যুবরাজ…
মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য আলোচনার প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হুমকির মুখে কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় যাবে না তেহরান। এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে যখন দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনা এবং মধ্যস্থতার উদ্যোগ সক্রিয়ভাবে এগোচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার টেবিলকে “আত্মসমর্পণের টেবিলে” পরিণত করতে চাইছেন। তবে ইরান কোনো চাপ বা হুমকির মুখে নতি স্বীকার করবে না। তার এই বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপের সরাসরি জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছিল। তবে আলোচনা শুরুর আগেই উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান আলোচনায় না বসলে তাদের “চরম পরিণতির” মুখোমুখি হতে হবে।
মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান শেষ পর্যন্ত আলোচনায় বসবে। তার ভাষায়, “তারা আলোচনায় বসবে। না হলে এমন সমস্যায় পড়বে যা তারা আগে কখনো দেখেনি।” একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, একটি “ন্যায্য ও সম্মানজনক চুক্তি” সম্ভব হবে এবং ইরান তার অর্থনীতি পুনর্গঠন করতে পারবে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।
ট্রাম্প আরও বলেন, সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না এবং তারা একটি বড় কাজ সফলভাবে শেষ করেছে। তার মতে, পরিস্থিতি এখন আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দিকে যেতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার ট্রাম্পকে জনসমক্ষে কঠোর বা উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে আলোচনার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানি এক কর্মকর্তা জানান, ইরানের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে। তার মতে, শিগগিরই ইরানের একটি প্রতিনিধিদল আলোচনায় অংশ নিতে পারে। একই সঙ্গে দুই পক্ষের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও ইরান ইস্যুতে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এককভাবে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা সীমিত করতে আবারও সিনেটে প্রস্তাব তুলেছে। সিনেটের সংখ্যালঘু ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার জানিয়েছেন, যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত এই প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধ বন্ধ করা এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সামরিক অভিযান ঠেকানো।
তিনি রিপাবলিকানদের সমালোচনা করে বলেন, সেনারা যখন যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন ঝুঁকিতে ফেলছেন, তখন কংগ্রেসের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। তার মতে, যতক্ষণ না যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসে, ততক্ষণ এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও বাস্তবে প্রেসিডেন্টের ভূমিকাই বেশি সক্রিয়। ফলে এই ইস্যুতে দুই দলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ চলছে।
এদিকে পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪১৫ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৭১ জন সদস্য আহত হয়েছেন স্থলবাহিনীতে । এছাড়া নৌবাহিনীর ৬৩ জন, বিমানবাহিনীর ৬২ জন এবং মেরিন কোরের ১৯ জন সদস্য আহত হয়েছেন।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন বাহিনীতে হতাহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর নিয়মিতভাবে এই ক্ষয়ক্ষতির হালনাগাদ প্রকাশ করছে।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au