যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের তিন ধাপের প্রস্তাব
মেলবোর্ন, ২৭ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে তিন ধাপের একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এই প্রস্তাব ইসলামাবাদ-এ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে বলে…
মেলবোর্ন, ২৭ এপ্রিল- ঢাকার উত্তর বাড্ডায় নিজ বাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একই বিভাগের এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার সকালে বাড্ডার পূর্বাচল উদয়ন ম্যানশন এলাকার একটি বাসা থেকে মিমোকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনার সকাল
নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শনিবার রাত পর্যন্ত সবকিছুই স্বাভাবিক ছিল। রাত প্রায় ১১টার দিকে বাবার সঙ্গে কথা বলে মিমো নিজের কক্ষে চলে যান। এরপর আর কোনো অস্বাভাবিক আচরণ চোখে পড়েনি পরিবারের কারও।
রোববার ভোরে ফজরের নামাজের সময় তার বাবা ঘুম থেকে উঠে মেয়ের কক্ষের দরজায় ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মিমোকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। দ্রুত তাকে নামিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক তদন্ত
ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। বাড্ডা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল ইমরান জানান, পরিবারের বয়ান এবং ঘটনাস্থলের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখে প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে।
মিমোর কক্ষ থেকে পাওয়া ওই চিরকুটে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা এক শিক্ষকের কাছে দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। পাশাপাশি ব্যক্তিগত কিছু বার্তাও লেখা ছিল সেখানে একজন সহপাঠীর নামও উঠে এসেছে।
শিক্ষক গ্রেপ্তার
মিমোর বাবা তার মেয়ের মৃত্যুকে আত্মহত্যার প্ররোচনা হিসেবে দেখছেন। তিনি একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার ভিত্তিতেই পুলিশ ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখায়।
এর আগে তাকে এবং মিমোর এক ঘনিষ্ঠ সহপাঠীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে সহপাঠীকে ছেড়ে দেওয়া হলেও শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, চিরকুটে উল্লেখ থাকা তথ্য, পারিপার্শ্বিক আলামত এবং পরিবারের অভিযোগ সবকিছু মিলিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
মিমোর মৃত্যুর খবর রোববার সকালেই পৌঁছে যায় বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে। বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী তামান্না হক জানান, “আমি সকাল ৮ টায় খবর পেয়েছি। আমরা শুনতে পেয়েছি, একটা সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। সেখানে লেখা ছিল—‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দেওয়া হোক।’ আরেকজন সহপাঠীর নামও ছিল সেখানে। বলা ছিল ‘তোমরা দুইজন ভালো থেক’।”
এদিকে বিভাগের পক্ষ থেকে দেওয়া এক শোকবার্তায় বলা হয়েছে, বিভাগের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আমাদের বিভাগের এমএ দ্বিতীয় সেমিস্টারের মেধাবী শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে আমাদের সকলকে শোকে স্তব্ধ করে দিয়ে চলে গেছেন। অনেক উৎফুল্ল আর বলিষ্ঠ স্বভাবের মাহজাবিন এমন সিদ্ধান্ত নিবে, আমরা কেউ বিশ্বাস করতে পারছি না। এমন মৃত্যু আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। বিভাগের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ শোকে আচ্ছন্ন। আমরা চাই, সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘটনায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠত হোক।
“আমরা বিভাগের পক্ষ থেকে মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। আশা করি, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ধৈর্যের সাথে সবাই মিলে এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সক্ষম হবো।”
মুনিরা মাহজাবিন মিমো ছিলেন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত ছিলেন। রাজধানীর বাড্ডায় বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায়। সহপাঠীদের কাছে তিনি ছিলেন প্রাণবন্ত, সাহসী এবং সংস্কৃতিমনা একজন মানুষ। থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে নাটক, মঞ্চ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা ছিল।
ওই শিক্ষার্থীর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর কথা বলেছেন বাড্ডা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল ইমরান।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au