ইনুকে ‘টেনশন করতে না বলা’ সেই ২ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার
মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার আসামি সাবেক মন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে আদালতে আনা-নেওয়ার সময় ‘টেনশন না করতে বলা’ দুই…
মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে দেশটির বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী সামরিক হামলার একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। পরিকল্পনাটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
মার্কিন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ওয়াশিংটন যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছে, তখনই এই সামরিক বিকল্পটি সামনে আসে। পরিকল্পনাটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ নয়, বরং সীমিত সময়ের মধ্যে বড় ধরনের ক্ষতি সাধনের কৌশল হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনাকে ট্রাম্পের কাছে একটি “উচ্চপ্রভাবসম্পন্ন বিকল্প” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে এখনো তিনি এ বিষয়ে অনুমোদন দেননি। বরং তিনি বর্তমানে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ও নৌ অবরোধ বজায় রাখার নীতিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, সেন্টকমের প্রস্তাবিত হামলা পরিকল্পনায় ইরানের তেল রপ্তানি অবকাঠামো, সামরিক ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার এবং আঞ্চলিক মিলিশিয়া নেটওয়ার্ককে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো দ্রুত এবং কঠোর আঘাত হেনে তেহরানকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করা।
আরেকটি বিকল্প পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালির আংশিক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ও রয়েছে, যা বাস্তবায়নে স্থল অভিযান প্রয়োজন হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে ইরানের দেওয়া আংশিক কূটনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নৌ অবরোধ ও চাপ অব্যাহত রাখার অবস্থান নেয়। ট্রাম্প এ কৌশলকে প্রকাশ্যে “বোমার চেয়েও কার্যকর” বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য হামলায় ব্যবহারের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর ডার্ক ঈগল হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই অস্ত্র শব্দের গতির পাঁচ গুণ বেশি গতিতে ১ হাজার ৭২৫ মাইলেরও বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম এবং গভীর বাংকার বা শক্তিশালী সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে কার্যকর।
সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই “স্বল্পমেয়াদি ও শক্তিশালী হামলা” পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করেছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পরিকল্পনা বাস্তব হামলার ইঙ্গিত নয়, বরং এটি মূলত ইরানের ওপর কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়িয়ে আলোচনায় সুবিধা আদায়ের কৌশল।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। লেবাননে ইসরায়েলের একটি হার্মিস ৪৫০জেড ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ড্রোনটি ধ্বংস করেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর পাঁচজন যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। একই সময়ের মধ্যে লেবাননের মাজদাল জউন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে উদ্ধারকর্মী ও সেনাসদস্যও রয়েছেন। চলমান হামলা ও পাল্টা হামলায় বহু প্রাণহানির ঘটনায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিন্দা বাড়ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সামরিক নীতিতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। জার্মানিতে মোতায়েন থাকা প্রায় ৩৩ হাজার ৯০০ মার্কিন সেনা কমানোর বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। ইরান যুদ্ধ ও ইউরোপীয় মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে মতবিরোধের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান সংকট এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রশক্তিগুলোর মধ্যে নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au