নিজ দেশে নিপীড়নের শঙ্কার কথা জানালে ভিসা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১ মে- যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসন। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ভিসা আবেদনকারী যদি নিজ দেশে নিপীড়ন বা নির্যাতনের শঙ্কার কথা উল্লেখ করেন, তাহলে তাকে ‘নন-ইমিগ্র্যান্ট’ ভিসা দেওয়া হবে না।
সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে একটি কূটনৈতিক বার্তার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোকে এই নতুন নীতির বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। বার্তায় বলা হয়েছে, অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, এই বার্তাটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে।
নতুন এই নিয়ম মূলত ‘নন-ইমিগ্র্যান্ট’ ভিসা আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এর আওতায় পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং অস্থায়ী কর্মীদের ভিসা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের মতে, অনেক ক্ষেত্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার প্রবণতা দেখা গেছে। সেই প্রবণতা ঠেকাতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক বার্তায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভিসা আবেদনকারীরা তাদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো ধরনের জালিয়াতি করছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই বিষয়টিতে যে, আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইবেন কি না, তা আগেই যাচাই করতে হবে।
এই যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ‘নন-ইমিগ্র্যান্ট’ ভিসা আবেদনকারীদের কাছে দুটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথম প্রশ্ন, তারা কি নিজেদের দেশ বা সর্বশেষ বসবাসের স্থানে কোনো ধরনের নির্যাতন বা ক্ষতির শিকার হয়েছেন। দ্বিতীয় প্রশ্ন, নিজ দেশে ফিরে গেলে তারা কোনো নির্যাতনের আশঙ্কা করছেন কি না। নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ভিসা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হলে আবেদনকারীকে এই দুই প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি ‘না’ বলতে হবে। অন্যথায় তাদের আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অভিবাসন নীতি বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত অনেক আবেদনকারীকে কঠিন অবস্থায় ফেলতে পারে। বিশেষ করে যারা বাস্তবিক অর্থেই নিজ দেশে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তাদের জন্য এই নিয়ম বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে আবেদনকারীদের এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হতে পারে, যা তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কিংবা পরিবারের ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ৭৫টি দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করা হয়। নতুন নিরাপত্তা নির্দেশনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন আবেদন পুনর্মূল্যায়নের জন্য কিছু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তও স্থগিত রাখা হয়েছে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেশটির ভেতরে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হয়। সাধারণত যারা নিজ দেশে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান, তারাই আশ্রয়ের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে নতুন এই নীতির ফলে এমন ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।