সেনানিবাসে নজরদারি জোরদার। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২ মে- ঢাকা সেনানিবাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে ড্রোন শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ প্রযুক্তি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। একই সময়ে উন্নত প্রশিক্ষণ ও সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতিও চলছে বলে জানা গেছে।
সেনাবাহিনীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত তিনতলা কনভেনশন সেন্টার ‘সেনা মালঞ্চ’-এর ছাদে ড্রোন শনাক্ত ও জ্যামিং ডিভাইস বসানো হবে। যদিও এই স্থাপনা বা সেনানিবাসের ওপর তাৎক্ষণিক কোনো হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি, তবুও আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি সেনাবাহিনী ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে তিনজন চীনা বিশেষজ্ঞকে আমন্ত্রণ জানায়। তারা গত ২৭ এপ্রিল ঢাকায় এসে দুই দিনের একটি নিবিড় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করেন। এতে প্রায় ২০ জন সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন। প্রশিক্ষণে ‘কাউন্টার ইউএএস’ এবং ‘কাউন্টার ইউএভি’ সমন্বিত প্রযুক্তির ব্যবহার শেখানো হয়, যা শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত, ট্র্যাক, সনাক্তকরণ এবং নিষ্ক্রিয় করতে ব্যবহৃত হয়।
এই অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তিতে বহুস্তরভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। রাডার, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি স্ক্যানার এবং ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ক্যামেরার মাধ্যমে সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করা হয়। এরপর ‘সফট-কিল’ পদ্ধতিতে জ্যামিং বা সিগন্যাল বিভ্রান্তির মাধ্যমে ড্রোন নিয়ন্ত্রণহীন করা হয়, অথবা ‘হার্ড-কিল’ পদ্ধতিতে নেট গান বা লেজারের মাধ্যমে সরাসরি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তাদের গবেষণা ও উন্নয়ন খাত পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। দীর্ঘ প্রায় এক দশক বাজেট সংকটের কারণে এ খাতটি স্থবির ছিল। এখন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সঙ্গে যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রযুক্তিগত দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা এবং নিজস্ব প্রযুক্তি উন্নয়নে অগ্রগতি আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সামরিক সূত্রগুলো বলছে, এই যৌথ প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা কর্মসূচি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে সামরিক অংশীদারিত্বের পরিধি বাড়ানো, বহুমাত্রিক প্রশিক্ষণ কাঠামো গড়ে তোলা, গবেষণা ও উন্নয়ন খাতকে সক্রিয় করা এবং প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, গত ৩০ এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল গাজীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করে। রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয় এবং এখানে ১৯টি কারখানায় বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক পণ্য উৎপাদন করা হয়। সফরকালে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা উৎপাদন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন, পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ও মানের প্রশংসা করেন।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ