হরমুজ সংকটের মধ্যেই চতুর্থবার তেল উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেক প্লাস
মেলবোর্ন, ৭ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে জ্বালানি সরবরাহ সংকটের মধ্যেই আবারও তেল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ওপেক প্লাস। জোটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র…
মেলবোর্ন, ১৭ মে- বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি খসড়া প্রস্তাব ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই প্রস্তাবের সহ-উদ্যোক্তা কিংবা সমর্থনকারী দেশগুলো ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জন্য ‘আন্তর্জাতিক দায়’ বহন করবে।
বার্তা সংস্থা আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘে ইরানের মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে নিজেদের অবস্থানকে বৈধতা দিতে বিভিন্ন দেশকে পাশে দাঁড় করিয়ে ‘ভুয়া আন্তর্জাতিক সমর্থনের’ চিত্র তৈরি করার চেষ্টা করছে।
ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব আসলে রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়ানোর অংশ। তেহরান দাবি করেছে, কোনো ধরনের কূটনৈতিক ব্যাখ্যা বা রাজনৈতিক অজুহাত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক দায় থেকে মুক্ত করতে পারবে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, বাহরাইন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশের সমর্থনে জাতিসংঘে উত্থাপিত খসড়া প্রস্তাবে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় জলসীমায় আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস সরবরাহ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় যে কোনো ধরনের সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতিসংঘে এই প্রস্তাব নিয়ে বিরোধ কেবল কূটনৈতিক লড়াই নয়; বরং এর পেছনে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামরিক অবস্থানকে ঘিরে বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতাও জড়িত রয়েছে।
ইরান ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করেছে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বাইরের শক্তির সামরিক উপস্থিতি কিংবা চাপ প্রয়োগের প্রচেষ্টা তারা সহজভাবে নেবে না। ফলে জাতিসংঘে প্রস্তাব উত্থাপনের পর নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au