ব্যাঙ্ককে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা : চালকের শরীরে মিলল মাদকের উপস্থিতি ।
ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৯ মে- থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। দুর্ঘটনার পর তদন্তে ট্রেনচালকের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়ায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার বিকেলে ব্যাঙ্ককের ব্যস্ত আসোক-দিন দ্যাং লেভেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তীব্র যানজটের কারণে একটি পাবলিক বাস রেললাইনের ওপর আটকে পড়লে দ্রুতগতির পণ্যবাহী ট্রেন সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পরপরই বাসটিতে আগুন ধরে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ট্রেনচালকের মূত্র পরীক্ষা করা হলে সেখানে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। তবে কোন ধরনের মাদক শনাক্ত হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনায় ট্রেনচালকের বিরুদ্ধে বেপরোয়া চালনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
শুধু ট্রেনচালকই নয়, বাসচালক এবং লেভেলক্রসিংয়ের ব্যারিয়ার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রহরীকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই লেভেলক্রসিংয়ের ব্যারিয়ার এখনো হাতে পরিচালিত হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
থাইল্যান্ডের রেল পরিবহন বিভাগের মহাপরিচালক পিচেত কুনাধামরাকস জানান, দুর্ঘটনার পর দেশের সব ট্রেনচালক ও রেলকর্মীর জন্য বাধ্যতামূলক মাদক ও অ্যালকোহল পরীক্ষা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ট্রেনের ব্ল্যাক বক্সের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাসটির প্রায় ১০০ মিটার দূরে থাকতেই জরুরি ব্রেক প্রয়োগ করেছিলেন চালক। কিন্তু এত কম দূরত্বে সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আসোক-দিন দ্যাং লেভেলক্রসিং ব্যাঙ্ককের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন সেখানে চলাচল করে।
থাইল্যান্ডের স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডক্টর আমর্ন ফিমার্নমাস বলেন, প্রতিদিন এক লাখের বেশি যানবাহন ওই লেভেলক্রসিং ব্যবহার করে, যা নিরাপদ সীমার চেয়েও অনেক বেশি।
তার ভাষায়, মানুষ ধীরে ধীরে ঝুঁকিকে স্বাভাবিক হিসেবে নিতে শুরু করেছে, আর এ ধরনের মানসিকতাই বড় দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ঘটনার পর আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সুত্রঃ বিবিসি