ইরান যুদ্ধের উত্তাপে সৌদিতে যুদ্ধবিমান ও ৮ হাজার সৈন্য মোতায়েন করল পাকিস্তান । ছবি : রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১৯ মে- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে বড় ধরনের সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ রিয়াদে এক স্কোয়াড্রন যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রায় ৮ হাজার সৈন্য পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও দুটি সরকারি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যকার গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই সামরিক মোতায়েন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হলো।
সূত্রগুলোর দাবি, সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য শত্রুপক্ষের হামলা প্রতিরোধে সহায়তা করাই এই মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য। পাকিস্তান সৌদিতে প্রায় ১৬টি যুদ্ধবিমানের একটি পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড্রন পাঠিয়েছে, যার বেশিরভাগই চীনের সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান। এসব যুদ্ধবিমান চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে সৌদি আরবে পৌঁছায়।
এ ছাড়া পাকিস্তান দুটি ড্রোন স্কোয়াড্রন এবং একটি চীনা এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েন করেছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্রগুলো।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার পাকিস্তানি সেনা সদস্য সৌদিতে অবস্থান করছেন। প্রয়োজনে আরও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ইসলামাবাদ। এমনকি ভবিষ্যতে সৌদি সীমান্ত সুরক্ষায় ৮০ হাজার পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনার কথাও গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে।
যদিও পাকিস্তান এই মুহূর্তে ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকার চেষ্টা করছে, তবুও সৌদিতে এই সামরিক উপস্থিতি আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তবে এ বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক ও পররাষ্ট্র দপ্তর এবং সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত বছর রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তিটি গোপন রাখা হলেও তখন উভয় দেশ জানিয়েছিল, শত্রুপক্ষের হামলার ক্ষেত্রে তারা একে অপরের প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসবে। সে সময় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছিলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব পাকিস্তানের ‘পারমাণবিক ছাতার’ আওতায় এসেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান সৌদি আরবকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দিয়ে আসছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকটের সময় রিয়াদও ইসলামাবাদকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে পাশে থেকেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের এই সামরিক ঘনিষ্ঠতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সুত্রঃ রয়টার্স