বিশ্ব

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ডিআর কঙ্গোতে অন্তত ১৩১ জনের মৃত্যু

  • 8:37 pm - May 19, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২১৮ বার
ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ডিআর কঙ্গোতে । ছবি : রয়টার্স

মেলবোর্ন, ১৯ মে-  ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। এখন পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৫ শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ডিআর কঙ্গোর বিভিন্ন নতুন এলাকায় দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশ, বুটেম্বো ও গোমা শহরে উদ্বেগজনক হারে রোগী শনাক্ত হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য বিভাগ আক্রান্তদের শনাক্ত ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ইবোলায় আক্রান্ত দুইজন শনাক্ত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ডিআর কঙ্গোতে আক্রান্ত এক মার্কিন নাগরিককে চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটিতে কর্মরত আরও এক মার্কিন চিকিৎসকও সংক্রমিত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে চিকিৎসা মিশনারি দল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বর্তমানে যে সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা তার চেয়েও বেশি হতে পারে। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্থানীয় সীমা পেরিয়ে আঞ্চলিকভাবে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ইবোলা ভাইরাস অত্যন্ত প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল, রক্ত বা সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপদ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে এবং আক্রান্তদের দাফন বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় সতর্কতা না নিলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।

আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের প্রধান জ্যাঁ কাসেয়া জানিয়েছেন, টিকা ও কার্যকর ওষুধের সীমাবদ্ধতার কারণে জনসচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন, মৃত ব্যক্তির দাফনের সময় অসতর্ক আচরণ নতুন সংক্রমণের বড় কারণ হতে পারে।

এদিকে সংক্রমণ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে রুয়ান্ডা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডাসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকে আন্তঃসীমান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, হাসপাতাল প্রস্তুতি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবে ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে নতুন করে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

সুত্রঃ বিবিসি

এই শাখার আরও খবর

বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, যুদ্ধ, বাণিজ্যিক অস্থিরতা এবং সরবরাহব্যবস্থায় বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে,…

চীন থেকে যুদ্ধবিমান কিনলে বাংলাদেশের সুবিধা-অসুবিধা কী?

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীন থেকে নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। আলোচনায় থাকা চীনের তৈরি জে-১০সি যুদ্ধবিমান নিয়ে ইতোমধ্যে দেশের প্রতিরক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক…

মৃত্যুর ২০ বছর পর প্রকাশ্যে স্টিভ আরউইনের আবেগঘন শেষ বার্তা

মৃত্যুর ২০ বছর পর প্রকাশ্যে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ‘ক্রোকোডাইল হান্টার’ স্টিভ আরউইনের তাঁর দলের উদ্দেশে দেওয়া শেষ আবেগঘন বার্তা। কুমির নিয়ে গবেষণার শেষ অভিযানে যাওয়ার…

ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইরানের আকস্মিক হামলার আশঙ্কা সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইরান আকস্মিক হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিউনিশিয়ায় দায়িত্ব পালন করা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জোয়ে হুড। তাঁর ধারণা, বিশেষ…

রংপুরের চার খুন: তদন্ত কি ঘুরিয়ে দিচ্ছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা?

রংপুরে গত ১৯ আগস্ট একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই…

জ্বালানি ব্যয়ের চাপে পিডিবি, বিদ্যুৎ খাতে লোকসান ৬০ হাজার কোটি ছাড়ানোর আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়ছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে। জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au