পিরোজপুরে নিখোঁজের একদিন পর কবিরাজের মরদেহ উদ্ধার
মেলবোর্ন, ১৯ মে- পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর নির্মল হালদার নামে এক গ্রাম্য কবিরাজের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি…
মেলবোর্ন, ১৯ মে- ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও রানীশংকৈল উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুই হিন্দু ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজন দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় ভুগে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে পারিবারিক কলহের জেরে এক তরুণ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার (১৮ মে) দুই উপজেলার পৃথক স্থান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দোগাছি গির্জাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুশীল চন্দ্র রায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৮ বছর ধরে নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিনের শারীরিক কষ্ট ও মানসিক হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে তিনি কীটনাশক পান করেন। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতের ছোট ভাই মলিন চন্দ্র রায় জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন তার বড় ভাই। নানা ধরনের চিকিৎসা নেওয়ার পরও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। রোগযন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন বলে পরিবারের ধারণা।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় তাদের কোনো অভিযোগ নেই। তাই ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ সৎকারের অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছে। বালিয়াডাঙ্গী থানায় এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে রানীশংকৈল উপজেলার ৩ নম্বর হোসেনগাঁও ইউনিয়নের উজধারী গ্রামে স্বপন কুমার রায় নামে এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার বয়স ছিল ২০ বছর। তিনি পেশায় মোটরসাইকেল মেকানিক ছিলেন এবং সম্প্রতি ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরেছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বপনের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় তিনি কিছুদিন ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সোমবার রাতে স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসা নিয়ে স্বপনের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মনোমালিন্য হয়। পরে রাতের খাবার খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে নিজ শয়নকক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
রানীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল বারী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দুই উপজেলার পৃথক এই মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ স্বপন কুমার রায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au