সীমান্তে বিএসএফের গুলির জবাবে বিজিবির পাল্টা গুলি
মেলবোর্ন, ১৯ মে- সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলির জবাবে পাল্টা ফায়ার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে আকস্মিক এই…
মেলবোর্ন, ১৯ মে- অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ক্যাম্পবেলটাউন এলাকায় এক বাংলাদেশি পরিবারের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে ৪৭ বছর বয়সি এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যার পর ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম সিডনি মর্নিং হেরাল্ড এবং নাইন নিউজ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানোর অনুরোধ করেন। সেই ফোন পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ক্যাম্পবেলটাউনের ওই বাড়িতে পৌঁছে যায়।
পুলিশ বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে ৪৬ বছর বয়সি এক নারী, ১২ বছর বয়সি এক ছেলে এবং ৪ বছর বয়সি আরেক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তিনজনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অ্যাক্টিং সুপারিনটেনডেন্ট মিশেল মরোনি ঘটনাস্থলকে “অত্যন্ত ভয়াবহ, ট্রমাটিক এবং নৃশংস অপরাধস্থল” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, ঘরের বিভিন্ন স্থানে মরদেহ পাওয়া গেছে এবং কিছু বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনাস্থলে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনার সময় বাড়িতেই ছিলেন এবং তিনিই জরুরি নম্বরে ফোন করেছিলেন। তবে সেই কলের পূর্ণ বিবরণ এখনো তদন্তাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তিনটি পারিবারিক সহিংসতাজনিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। রাতভর তদন্তকারীরা বাড়ির ভেতরে প্রমাণ সংগ্রহ করেন, ফরেনসিক দল কাজ করে এবং প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এলাকাজুড়ে একাধিক পুলিশ গাড়ি ও নিরাপত্তা বলয় স্থাপন করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, পরিবারটি প্রায় এক দশক আগে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন নেয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি মূলত ঘরে থেকে দুই সন্তানের দেখাশোনা করতেন। দুই শিশুরই গুরুতর বিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতা ছিল এবং তারা কথা বলতে পারত না। অন্যদিকে নিহত নারী পূর্ণকালীন চাকরি করে পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস ছিলেন।
পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে কোনো ধরনের অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং তিনি কখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসেননি। এছাড়া পরিবারের সঙ্গে সামাজিক সেবা বা শিশু সুরক্ষা সংস্থারও কোনো পূর্ব যোগাযোগ ছিল না।
মঙ্গলবার ক্যাম্পবেলটাউন আদালতে মামলাটি উপস্থাপন করা হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি সরাসরি আদালতে হাজির হননি। তার আইনজীবী জানান, পুলিশ হেফাজতে তিনি “চরম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায়” আছেন। আদালত তাকে জামিন না দিয়ে রিমান্ডে পাঠিয়েছে এবং আগামী জুলাই মাসে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা জানান, নিহত শিশুরা সবসময় হাসিখুশি ছিল এবং প্রায়ই বাড়ির বাইরে খেলাধুলা করত। এক প্রতিবেশী বলেন, “এ ধরনের ঘটনা নিজের এলাকায় ঘটেছে শুনে বিশ্বাস করা খুব কঠিন।”
আরেক বাসিন্দা জানান, ঘটনার খবর শুনে তিনি নিজ বাগান থেকে ফুল নিয়ে ঘটনাস্থলের সামনে রেখে এসেছেন। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এটা ভাবতেই পারি না। তারা তো শুধু শিশু ছিল।”
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মাইনস ঘটনাটিকে “ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরকার পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে বাজেটে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
এই ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগেই রাজ্যজুড়ে পারিবারিক সহিংসতা দমনে বিশেষ অভিযান চালানো হয়, যেখানে শত শত সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পুলিশ বলছে, এই হত্যাকাণ্ড সেই বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতারই একটি ভয়াবহ প্রতিফলন, যেখানে অনেক ঘটনা আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।
তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার প্রকৃত কারণ, মানসিক অবস্থা এবং ঘটনার পেছনের সম্ভাব্য কারণগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্রঃ নাইন নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au