বেইজিংয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২০ মে- চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।
ক্রেমলিন প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, এই সংক্ষিপ্ত বৈঠকের পর দুই দেশের প্রতিনিধিদলকে নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক, জ্বালানি সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যু গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রুশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বৈঠক শুরুর আগে গ্রেট হল অব দ্য পিপলের বাইরে করমর্দন করেন দুই নেতা। পুতিনকে স্বাগত জানাতে ভবনের প্রবেশপথে লালগালিচা বিছানো হয় এবং সি চিন পিংয়ের সঙ্গে পাশাপাশি হেঁটে বৈঠকস্থলে প্রবেশ করেন তিনি।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে বৈঠক শুরুর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই আলোচনা শুরু হয়। প্রায় ১৫ মিনিট স্থায়ী এই বৈঠকে দুই নেতা প্রাথমিক পর্যায়ের মতবিনিময় করেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, উদ্বোধনী বক্তব্যে সি চিন পিং বলেন, উন্নয়ন ও পুনর্জাগরণের পথে চীন ও রাশিয়ার একে অপরকে সহায়তা করা উচিত। তিনি দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পুতিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক এখন অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিনি দুই দেশের সহযোগিতাকে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছান রুশ প্রেসিডেন্ট। বেইজিং বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চীন সফরের পরপরই পুতিনের এই সফর আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক সম্পর্ক এবং ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি নিরাপত্তা ও ইরান ইস্যুর প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দুই নেতা পরবর্তী বিস্তৃত বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ রয়টার্স