বেইজিংয়ে পুতিন–সি সংক্ষিপ্ত বৈঠকে কি কি ছিল
মেলবোর্ন, ২০ মে- চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার স্থানীয়…
মেলবোর্ন, ২০ মে- অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক কর্মকা:ণ্ড নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ আবারও দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন এবং দলটির ‘ফিরে আসার কারণ’ নিয়ে দীর্ঘ বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
পোস্টে মাহফুজ আলম লেখেন, আওয়ামী লীগকে তিনি কেবল একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, বরং একটি ‘ধর্মতত্ত্বগত শক্তি’ হিসেবে দেখেন। তাঁর ভাষায়, সেই ‘ধর্মতত্ত্বের ইমান’ আবার ফিরে এসেছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনার মধ্য দিয়েই এর পুনরুত্থান ঘটেছে।
তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, সামাজিক পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দুর্বলতা আওয়ামী লীগের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার পথ তৈরি করেছে। তাঁর মতে, যেদিন ২০২৪ সালের ঘটনাকে ১৯৭১–এর বিপরীতে দাঁড় করানো হয়েছে এবং যেদিন রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় নানা পক্ষের ভূমিকা পরিবর্তিত হয়েছে, সেদিন থেকেই সেই প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
মাহফুজ আলম তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, গত কয়েক বছরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং সামাজিক অস্থিরতা বেড়ে যাওয়াও এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। তাঁর ভাষায়, মব বা জনতার চাপভিত্তিক বিচারব্যবস্থা, ভিন্নমত দমনের প্রবণতা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক স্থানে হামলার ঘটনাগুলো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় ও সামাজিক সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীরবতা রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি ডানপন্থী ও উগ্রবাদী শক্তির উত্থান, এবং তাদের প্রতি সামাজিক বা রাজনৈতিক সহনশীলতা আওয়ামী লীগের পুনরাগমনের পটভূমি তৈরি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনামূলক অবস্থান নেন তিনি। তাঁর দাবি, রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় ন্যূনতম সংস্কারের পরিবর্তে জটিল কমিশন ও সমন্বয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক অবস্থান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মাহফুজ আলম আরও লেখেন, ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতা রাজনৈতিক কাঠামোয় রূপান্তরিত না হয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছে বলেও তিনি মনে করেন। পাশাপাশি গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংঘাতপূর্ণ পরিবেশও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আমলাতান্ত্রিক প্রভাব বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ ধাঁচের সমন্বয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পারস্পরিক প্রতিযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তাঁর মতে, এসবের ফলে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক চর্চার পরিবর্তে সংঘাতমুখী পরিবেশ এবং সাংস্কৃতিক রাজনীতির দ্বন্দ্বও পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে। তাঁর ভাষায়, রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে এগোতে না পারায় বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ পেয়েছে।
মাহফুজ আলম দাবি করেন, নির্বাচনি ও রাজনৈতিক সমঝোতার প্রক্রিয়ায় সংস্কার ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে আপসের মনোভাবও এই পরিস্থিতিতে ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন কমিশন ও প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর এই বিশ্লেষণ সম্পূর্ণ নয় এবং ভবিষ্যতে এ তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au