ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন পুলিশ সদস্যরা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২১ মে- রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বগুড়ার গাবতলীতে নিজ ঘরে গলাকাটা অবস্থায় এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে রীতা রানী মজুমদার নামে ওই নারীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার রাত সোয়া ১২টার দিকে গাবতলী উপজেলার মমিনহাটা দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রীতা রানী মজুমদারের বয়স ৪৫ বছর। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা বিধান চন্দ্র রায়ের স্ত্রী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রীতা রানী ও তার স্বামী বাড়িতে একসঙ্গেই বসবাস করতেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে পড়াশোনার কারণে ঢাকায় থাকেন। বুধবার রাতেও স্বাভাবিকভাবেই দিন কাটাচ্ছিল পরিবারটি। রাত ১০টার দিকে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে খাবার খাওয়ার পর আলাদা কক্ষে ঘুমাতে যান।
নিহতের স্বামী বিধান চন্দ্র রায় জানান, রাত সোয়া ১২টার দিকে হঠাৎ তার ঘরের দরজায় জোরে ধাক্কার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। একই সময় পাশের ঘর থেকে স্ত্রীর গোঙানির শব্দ শুনতে পান তিনি। দ্রুত স্ত্রী রীতা রানীর কক্ষে গিয়ে দেখেন, ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন তিনি। তার গলা কাটা ছিল। এ দৃশ্য দেখে তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় বাড়ির সদর দরজা খোলা ছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর জানান, নিহতের মরদেহ শয়নকক্ষের মেঝেতে গলাকাটা অবস্থায় পড়ে ছিল। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
তিনি বলেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রীতা রানী ও তার স্বামী শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে কারও দৃশ্যমান বিরোধ ছিল না। ফলে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটল, তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নারী ও শিশু হত্যার একের পর এক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ঘরের ভেতরে ঢুকে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জনমনে নতুন করে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করেছে।