মেলবোর্ন, ২২ মে- কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আনা হত্যা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে। কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আইনি পদক্ষেপ ও শক্তি প্রয়োগের হুমকির তীব্র সমালোচনা করে তা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে চীন।
বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিচারিক অপব্যবহার, নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক হুমকি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করছে।
তিনি বলেন, মতবিরোধ থাকলেও বারবার শক্তি প্রয়োগের ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়। কিউবার ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
সম্প্রতি ৯৪ বছর বয়সী কিউবার সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক হত্যা ও অন্যান্য গুরুতর অভিযোগ আনে যুক্তরাষ্ট্র। অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৬ সালে কিউবা ও ফ্লোরিডার মধ্যবর্তী আকাশসীমায় দুটি বেসামরিক বিমান ভূপাতিতের ঘটনায় মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পেছনে কিউবার তৎকালীন সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকা ছিল। সে সময় কিউবার সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন রাউল কাস্ত্রো।
ঘটনাটি নিয়ে বহু বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। তবে নতুন করে এই অভিযোগ সামনে আসায় দুই দেশের সম্পর্কে আরও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কিউবার সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধান চাইলেও বর্তমান কিউবান নেতৃত্বের কারণে সেই সম্ভাবনা খুবই সীমিত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিউবা এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেয় এবং বিভিন্ন অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করেছে চীন।
বিশ্লেষকদের মতে, কিউবা ইস্যুকে কেন্দ্র করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি