পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে মাঠে মমতা, বিজেপি হটানোর নতুন কর্মসূচির ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৩ জুন- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের প্রায় এক মাস পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন…
মেলবোর্ন, ২ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইসরায়েল, লেবানন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে। একদিকে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় অনিশ্চয়তা পুরো অঞ্চলকে নতুন সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোনে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো এবং দীর্ঘদিন ধরে অস্থিতিশীল অবস্থায় থাকা হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল নিশ্চিত করা। তবে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং বৈরুতকে লক্ষ্য করে নতুন হামলার হুমকি সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে জটিল করে তোলে।
অ্যাক্সিওসের দাবি অনুযায়ী, সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সময় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপ হয়। আলোচনার মূল বিষয় ছিল লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ এবং এর সম্ভাব্য আঞ্চলিক প্রভাব। একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা ও আলোচনার সঙ্গে পরিচিত সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, কথোপকথনের একপর্যায়ে ট্রাম্প অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং নেতানিয়াহুর সামরিক কৌশল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্প মনে করেন ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ আত্মরক্ষার সীমা অতিক্রম করেছে এবং তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। বিশেষ করে বৈরুতের দিকে সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
একজন মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে বলেন, তার বর্তমান পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে বড় ধরনের সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকেও এর রাজনৈতিক মূল্য দিতে হচ্ছে।
সূত্রগুলোর দাবি, ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর চলমান রাজনৈতিক ও আইনি সংকটের বিষয়ও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন না থাকলে নেতানিয়াহু আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারতেন। একাধিক সূত্রের ভাষ্যমতে, ট্রাম্প মনে করেন বর্তমানে ইসরায়েলের সরকার এমন কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে যা যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অন্যদিকে নেতানিয়াহু ফোনালাপে তার অবস্থান স্পষ্ট করেন। পরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি জানান, হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রকেট হামলা ও সীমান্ত এলাকায় সামরিক তৎপরতা বন্ধ না করে, তাহলে ইসরায়েল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইসরায়েল কোনো আপস করবে না।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর অব্যাহত হামলার মুখে ইসরায়েলের সামনে বিকল্প খুব সীমিত।
এদিকে ট্রাম্প পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ফোনালাপকে “খুবই ফলপ্রসূ” বলে বর্ণনা করেন। তিনি দাবি করেন, আলোচনার পর বৈরুতের দিকে অগ্রসর হওয়া ইসরায়েলি সেনাদের থামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং নতুন কোনো বড় ধরনের অভিযান আপাতত হবে না।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন এবং উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা জরুরি।
এদিকে লেবানন পরিস্থিতিকে ঘিরে ইরানও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যোগাযোগ ও আলোচনা কার্যত স্থগিত করেছে। ইরানের কর্মকর্তারা বলছেন, লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ না হলে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরানের সুপ্রিম লিডার মুজতবা খামেনি ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ছবিঃ বিবিসি
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান শুধু সংলাপ বন্ধ করবে না, বরং আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে। তিনি লেবাননের জনগণ ও প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কারণ ওয়াশিংটন একদিকে ইসরায়েলের প্রধান মিত্র, অন্যদিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য তেহরানের সঙ্গে আলোচনাও চালিয়ে যেতে চায়।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ইরানের কিছু কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল সীমিত বা বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
তবে পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে কিছুটা দ্বৈততা দেখা গেছে। একদিকে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ভেস্তে গেলেও তা নিয়ে তার বিশেষ উদ্বেগ নেই। এমনকি এক পর্যায়ে তিনি মন্তব্য করেন, আলোচনাগুলো তার কাছে “একঘেয়ে” হয়ে উঠেছিল।
অন্যদিকে একই দিন ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা এখনো রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। লেবাননে সংঘাত বৃদ্ধি পেলে তা সহজেই ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘর্ষের সীমা ছাড়িয়ে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশও সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে।
এ অবস্থায় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথনের খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও উভয় নেতা প্রকাশ্যে কূটনৈতিক ভাষা ব্যবহার করছেন, তবে পর্দার আড়ালে মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে মতপার্থক্য ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তাদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্য নতুন কোনো যুদ্ধের দিকে এগোবে, নাকি কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত হবে।
সূত্রঃ News.com.au
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au