কানাডায় বাংলাদেশিকে হত্যা: ৩ ব্রিটিশ দোষী সাব্যস্ত
মেলবোর্ন, ৭ জুন- কানাডায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী শরিফ রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর তিন ব্রিটিশ নাগরিককে দোষী সাব্যস্ত করেছে দেশটির একটি আদালত। প্রায়…
মেলবোর্ন, ৭ জুন- অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ওয়ান নেশনের আবাসন নীতি ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দলটির নেত্রী পলিন হ্যানসনের প্রস্তাবিত আবাসন নীতি নিয়ে বিভ্রান্তি ও অস্পষ্টতার অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করেছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। দেশটির কর্মসংস্থান ও কর্মক্ষেত্রবিষয়ক মন্ত্রী আমান্ডা রিশওর্থ বলেছেন, ওয়ান নেশন যদি নিজেদেরকে একটি গুরুতর রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাহলে তাদের আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
রোববার স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমান্ডা রিশওর্থ বলেন, ওয়ান নেশন দেশের আবাসন সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পারলেও বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, দলটির নেতারা নিজেদের নীতিমালার মৌলিক বিষয় নিয়েও একমত নন।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত সপ্তাহে ওয়ান নেশনের আবাসন নীতি প্রকাশের পর। দলটির প্রতিনিধি বার্নাবি জয়েস প্রথমে দাবি করেন, স্থায়ী বাসিন্দাদেরও (পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট) নিজেদের সম্পত্তি বিক্রি করতে বাধ্য করা হতে পারে। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি বক্তব্য সংশোধন করে জানান, নীতিটি কেবল বিদেশে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের মালিকানাধীন সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
এই বিভ্রান্তির পর লেবার পার্টি ওয়ান নেশনের নীতি প্রণয়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আমান্ডা রিশওর্থ বলেন, “ওয়ান নেশন সমস্যার কথা বলতে পারে, কিন্তু কার্যকর সমাধান দিতে গেলে তারা বিশৃঙ্খল অবস্থায় পড়ে যায়। একটি রাজনৈতিক দলকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হলে তাদের নীতিগুলো স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, অনেক ভোটার বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির দিকে ঝুঁকছেন ঠিকই, তবে ওয়ান নেশন এখনো দেশের বড় সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান তুলে ধরতে পারেনি।
এদিকে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, বিরোধী লিবারেল পার্টির প্রতি অসন্তুষ্ট অনেক ভোটার ওয়ান নেশনের দিকে ঝুঁকছেন। যদিও লেবার পার্টি মনে করছে, এটি মূলত ডানপন্থী রাজনীতির ভেতরের ভোট পুনর্বিন্যাসের ফল।
অন্যদিকে ওয়ান নেশন নেত্রী পলিন হ্যানসন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাদের নীতির আওতায় অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত স্থায়ী বাসিন্দাদের কোনো সম্পত্তি বিক্রি করতে বাধ্য করা হবে না। বরং বিদেশে বসবাসরত বিদেশি মালিকদের সম্পত্তি বিক্রির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আবাসন সংকট ও বাড়ির মূল্যবৃদ্ধি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ওয়ান নেশনের আবাসন নীতি ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও নীতির অস্পষ্টতা দলটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au