ছয়দফা : বাঙালির মুক্তির সনদ, জাতির পথের দিশা
মেলবোর্ন, ৭ জুন- ৭ জুন মানে শুধু একটি তারিখ না : ৭ জুন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিনটি শুধু একটি তারিখ ছিল না। এটি ছিল বাঙালির…
মেলবোর্ন, ৭ জুন- অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ওয়ান নেশনের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দলটির সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলেও ক্ষমতাসীন লেবার সরকার এটিকে নিজেদের জন্য বড় কোনো রাজনৈতিক হুমকি হিসেবে দেখছে না। বরং সরকার বলছে, এটি মূলত রক্ষণশীল ভোটব্যাংকের ভেতরে লিবারেল পার্টি ও ওয়ান নেশনের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের লড়াই।
অস্ট্রেলিয়ার কর্মসংস্থান ও কর্মক্ষেত্র সম্পর্কবিষয়ক মন্ত্রী Amanda Rishworth রোববার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ওয়ান নেশনের উত্থান মূলত লিবারেল পার্টির প্রতি ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন। তার ভাষায়, অনেক রক্ষণশীল ভোটার লিবারেল পার্টি ছেড়ে ওয়ান নেশনের দিকে ঝুঁকছেন।
তবে সাম্প্রতিক স্কাই নিউজ পালস ও ইউগভ জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টিকে ভোট দেওয়া প্রায় ১৪ শতাংশ ভোটার বর্তমানে ওয়ান নেশনের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। সংখ্যার হিসেবে যা প্রায় সাড়ে সাত লাখ ভোটারের সমান।
জরিপে আরও উঠে এসেছে যে, প্রথমবারের মতো ওয়ান নেশন প্রাথমিক ভোটের হিসেবে লেবার পার্টিকেও ছাড়িয়ে গেছে। জরিপ অনুযায়ী, ওয়ান নেশনের সমর্থন ২৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে লেবার পার্টির সমর্থন নেমে এসেছে ২৬ শতাংশে। এছাড়া প্রায় ৩৯ শতাংশ ভোটার ভবিষ্যতে ওয়ান নেশনকে ভোট দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।
ওয়ান নেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা Pauline Hanson দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন, জাতীয় পরিচয় এবং আবাসন সংকটের মতো ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের কারণে আলোচিত। সাম্প্রতিক সময়ে আবাসন নীতিকে কেন্দ্র করে দলটি নতুন করে বিতর্কে জড়ায়।
ওয়ান নেশনের সংসদ সদস্য Barnaby Joyce একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দলের আবাসন নীতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ভুল তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, দলটির নীতি অনুযায়ী স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদেরও বাড়ি বিক্রি করতে হতে পারে। পরে তিনি নিজের বক্তব্য সংশোধন করে জানান, নীতিটি কেবল বিদেশে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য, স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য নয়।
এই বিভ্রান্তির জেরে ওয়ান নেশনের নীতিগত প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী আমান্ডা রিশওয়ার্থ। তিনি বলেন, দলটি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পারলেও কার্যকর সমাধান দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
তার মতে, “ওয়ান নেশন যদি একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাহলে তাদের আরও সুসংগঠিত ও বাস্তবসম্মত নীতি নিয়ে সামনে আসতে হবে।”
এদিকে বিরোধী জোটের ছায়া অর্থমন্ত্রী Tim Wilsonও বিতর্কিত মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, যদি কোনো রাজনৈতিক দলের নীতি মানুষের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ বা দেশ ছাড়তে বাধ্য করার মতো ধারণার জন্ম দেয়, তাহলে সেটি গভীর উদ্বেগের বিষয়।
পরে পলিন হ্যানসন স্পষ্ট করে জানান, তাদের দল স্থায়ী বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করার কোনো পরিকল্পনা করছে না। আবাসন নীতির লক্ষ্য কেবল বিদেশে বসবাসকারী বিদেশি মালিকানাধীন সম্পত্তির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ান নেশনের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে দলটির বার্তা একাংশ ভোটারের মধ্যে সাড়া ফেলছে। তবে এই সমর্থন আগামী নির্বাচনে কতটা কার্যকর রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নেবে, তা সময়ই বলে দেবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au