১৬ মাসের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি, মে মাসে বেড়ে ৯.৪২ শতাংশ । ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ জুন- দেশে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি আবারও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সদ্য সমাপ্ত মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয় বাড়ার প্রভাবেই মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) প্রকাশিত বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মে মাসে পণ্য ও সেবার সামগ্রিক মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছিল, যা ছিল সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ হার। এরপর কিছুটা নিম্নমুখী থাকলেও মে মাসে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেল।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, মে মাসে খাদ্যপণ্যের তুলনায় খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি বেশি বেড়েছে। খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ। অন্যদিকে পরিবহন, বাসাভাড়া, পোশাক, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য সেবাখাতে ব্যয় বৃদ্ধির ফলে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশে।
গ্রাম ও শহরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির ব্যবধানও স্পষ্ট হয়েছে বিবিএসের প্রতিবেদনে। মে মাসে গ্রামীণ এলাকায় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা শহরাঞ্চলের ৯ দশমিক ২৫ শতাংশের তুলনায় বেশি। তবে খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে শহরে মূল্যস্ফীতি বেশি ছিল। শহরাঞ্চলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ, যেখানে গ্রামে ছিল ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী তুলনামূলক বেশি চাপের মুখে পড়েছে। এ খাতে গ্রামে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা শহরাঞ্চলে ছিল ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি, পরিবহন ব্যয় এবং বিভিন্ন সেবার মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চ মূল্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিবিএসের সর্বশেষ এই পরিসংখ্যান দেশের অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আগামী মাসগুলোতেও ভোক্তাদের ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।