ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা: ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মেলবোর্ন, ৮ জুন- ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কোটা আন্দোলনের নামে সরকার পতন হয়েছিল। ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল। এরপর ১৮ মাস…
মেলবোর্ন, ৮ জুন- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির কারণে আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ার শ্রমবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির শীর্ষ অর্থনৈতিক ও ব্যবস্থাপনা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডেলয়েট। প্রতিষ্ঠানটির নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সাল অস্ট্রেলিয়ার কর্মসংস্থানের জন্য ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধাক্কার বছর’ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। একই সঙ্গে এমন ৮১টি পেশার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যেগুলো ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ডেলয়েটের প্রকাশিত ‘এমপ্লয়মেন্ট ফোরকাস্টস: দ্য ইয়ার অব এআই’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব পেশার বড় অংশের কাজ তথ্য বিশ্লেষণ, নথি প্রক্রিয়াকরণ, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, গ্রাহকসেবা বা ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির মতো পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলোর অনেক দায়িত্ব ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এর ফলে একই পরিমাণ কাজের জন্য কম সংখ্যক কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। এর পেছনে কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডেলয়েট অ্যাকসেস ইকোনমিকসের অংশীদার ডেভিড রামবেনস বলেন, ইতোমধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছে। তবে সামগ্রিকভাবে এখনো অস্ট্রেলিয়ার শ্রমবাজারে ব্যাপক কর্মসংস্থান সংকট বা গণহারে চাকরি হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
তার ভাষায়, কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মীসংখ্যা কমানো হলেও যেসব পেশাকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেসব খাতে মোট কর্মসংস্থান এখনো টিকে আছে এবং অনেক ক্ষেত্রে বাড়ছেও। অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিছু প্রতিষ্ঠানে চাকরির ধরন বদলে দিলেও পুরো শ্রমবাজারে এখনো বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি।
প্রতিবেদনে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পেশাগুলোর মধ্যে করপোরেট সেবা ব্যবস্থাপক, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক, প্রকৌশল ব্যবস্থাপক, উৎপাদন ব্যবস্থাপক, সরবরাহ ও ক্রয় ব্যবস্থাপক, খুচরা বিক্রয় ব্যবস্থাপক, গ্রাহকসেবা কেন্দ্র ব্যবস্থাপক এবং অনুষ্ঠান আয়োজনকারীদের নাম রয়েছে।

ঝুঁকিতে ৮১ পেশা। ছবিঃ সংংগৃহীত
এছাড়া হিসাবরক্ষক, তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, গ্রন্থাগারিক, তথ্যব্যবস্থাপনা পেশাজীবী, তথ্যপ্রযুক্তি বিক্রয় বিশেষজ্ঞ, গ্রাফিক ও ওয়েব ডিজাইনার, চিত্রশিল্পী, চিকিৎসা চিত্রায়ন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসা বিশ্লেষক, ওয়েব ডেভেলপার, সফটওয়্যার প্রোগ্রামার, ডেটাবেইস প্রশাসক এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের কাজেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালিকার অন্য অংশে রয়েছে বীমা খাতের কেরানি, অর্থবাজার-সংশ্লিষ্ট কর্মী, পরিসংখ্যান কেরানি, ডাক বাছাইকারী, জরিপ গ্রহণকারী, টেলিফোন অপারেটর, অফিস সহায়ক কর্মী, সরবরাহ ও পরিবহন কেরানি, আদালত ও আইন সহকারী, ঋণ আদায়কারী, মানবসম্পদ সহকারী, গ্রন্থাগার সহকারী এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মী।
এছাড়া বিক্রয় ও বিপণন খাতের অনেক পেশাও ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বীমা প্রতিনিধি, বিক্রয় প্রতিনিধি, তথ্যপ্রযুক্তি বিক্রয় সহকারী, মোটরযান বিক্রয়কর্মী, ফার্মেসি বিক্রয় সহকারী, খুচরা বিক্রয় তত্ত্বাবধায়ক, পেট্রোলপাম্প কর্মী, ক্যাশিয়ার, পণ্য প্রদর্শনকারী, টেলিমার্কেটার এবং টিকিট বিক্রয়কর্মী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সরাসরি চাকরি বিলুপ্ত করার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে কাজের ধরন বদলে দেবে। ফলে কর্মীদের নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা অর্জন করবেন, তাদের জন্য নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
ডেলয়েটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একদিকে যেমন কিছু প্রচলিত পেশার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দিতে পারে, অন্যদিকে নতুন দক্ষতা, তথ্য বিশ্লেষণ, প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা এবং উদ্ভাবননির্ভর নতুন কর্মক্ষেত্রও সৃষ্টি করবে। তবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারলে অনেক কর্মী ও পেশাজীবী প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারেন।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর অস্ট্রেলিয়ায় কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তির প্রভাব এবং দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শুধু চাকরি রক্ষা নয়, বরং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থারও বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হবে। আগামী কয়েক বছরে অস্ট্রেলিয়ার শ্রমবাজারে যে পরিবর্তন আসছে, তা দেশটির কর্মসংস্থান কাঠামোকে দীর্ঘমেয়াদে নতুন রূপ দিতে পারে।
সূত্রঃ News.com.au
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au