ভারতে ডাটা সেন্টার প্রকল্পে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছেন রবিন খুদা নামে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় শিল্পপতি। ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ জুন- ভারতের ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় শিল্পপতি রবিন খুদা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁর প্রতিষ্ঠিত ডাটা সেন্টার কোম্পানি এয়ার ট্রাঙ্ক ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রবিন খুদা। বৈঠকের পর এয়ার ট্রাঙ্ক জানায়, ভারতজুড়ে প্রায় ৫ গিগাওয়াট সক্ষমতার আধুনিক ডাটা সেন্টার অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ডিজিটাল সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে এই বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা রবিন খুদা রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বয়েজ স্কুলে পড়াশোনা করেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান এবং পরে প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ধনী ব্যক্তিদের একজন। আন্তর্জাতিক ব্যবসাবিষয়ক সাময়িকী ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
এয়ার ট্রাঙ্কের ঘোষিত বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় অংশ যাবে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস জানিয়েছেন, মহারাষ্ট্রে প্রায় ৩ গিগাওয়াট সক্ষমতার ডাটা সেন্টার নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে মুম্বাইয়ের রায়গড় এলাকায় জমি কেনার চুক্তিও সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিনিয়োগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, এই উদ্যোগ ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই খাতে ভারতের অবস্থান সুসংহত করবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং দেশীয় সরবরাহব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করবে।
রবিন খুদা বলেন, বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের মধ্যে ভারত এমন একটি বাজার, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি, বিশাল জনসংখ্যা, দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তর এবং এআই প্রযুক্তির প্রতি উচ্চাকাঙ্ক্ষা একসঙ্গে বিদ্যমান। এসব কারণেই ভারতকে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করছে এয়ার ট্রাঙ্ক।
২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এয়ার ট্রাঙ্ক বর্তমানে ভারত ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, হংকং, জাপান, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে ডাটা সেন্টার পরিচালনা করছে। নতুন এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে ভারতের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার প্রযুক্তি খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: ফোর্বস