নতুন করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা, কি ঘটছে মধ্যপ্রাচ্যে?
মেলবোর্ন, ৮ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরান থেকে আবারও ইসরায়েলের…
মেলবোর্ন, ৮ জুন- ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কোটা আন্দোলনের নামে সরকার পতন হয়েছিল। ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল। এরপর ১৮ মাস ধরে “সংস্কার” এর নামে যা চলেছিল, তা আসলে ছিল রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা। শিক্ষা, ইতিহাস, সংস্কৃতি—সবকিছু টার্গেট হয়েছিল।
শিক্ষা ধ্বংস ও ইতিহাস মুছে ফেলা
২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি বই উৎসব হয়নি। শিক্ষা উপদেষ্টা নিজেই বলেছিলেন, “বই দিতে পারবো না”। পাঠ্যবই থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম বাদ গিয়েছিল। ৭ মার্চের ভাষণ ২ লাইনে শেষ হয়েছিল। ড. জাফর ইকবাল, সেলিনা হোসেনের লেখা উঠে গিয়েছিল। বদলে “রেপারের গল্প” ঢুকেছিল।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ৩০ লাখ থেকে “লাখো” বানানো হয়েছিল। পাকিস্তানের রাও ফরমান আলীর ডায়েরি, নিউইয়র্ক টাইমস, বাংলাদেশের আদালতের রায়—সব উপেক্ষা করে গণহত্যা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করা হয়েছিল। রাজাকার-আলবদরদের “ভুল বোঝাবুঝির শিকার” বলা হয়েছিল।
প্রশাসন ও গণমাধ্যমে দমন-পীড়ন
৫ আগস্ট পর প্রশাসন থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের যোগ্য কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাদের জায়গায় বসানো হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তিকে।
২০২৪ সালের ১ নভেম্বর বিটিভির ৬৪ জেলা প্রতিনিধি ও ৩ জন বিশেষ প্রতিনিধি—মোট ৬৭ জনকে এক চিঠিতে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। ৩ নভেম্বর নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য চলেছিল।
গণমাধ্যমের উপর আঘাত এসেছিল। ৩৭ জন সিনিয়র সাংবাদিকের প্রেসক্লাব সদস্য পদ স্থগিত, ১৬৭ জনের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল, দেড় শ’ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম তখনও বলেছিলেন, “৫৩ বছরের মিডিয়া এখনই সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে”।
নির্বাচন ও নতুন সরকারের ভূমিকা
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জনগণ ভোট দিয়েছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় ছিল—ইউনুসের জামানার পর যে নতুন সরকার এসেছিল, তারাও ইতিহাস বিকৃতি করছিল।
নতুন সরকার ইউনুসের রেখে যাওয়া পাঠ্যবই বাতিল করেনি। বঙ্গবন্ধুর নাম ফেরত আসেনি। “৩০ লাখ” এর জায়গায় “লাখো”ই থেকে গিয়েছিল। বিটিভি থেকে বাদ পড়া সাংবাদিকদের চাকরি ফেরত আসেনি। ইউনুসের আমলে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারাই বহাল ছিল।
অর্থাৎ সরকার বদলেছিল, কিন্তু খেলা একই ছিল। ৫ আগস্ট ২০২৪ এর ষড়যন্ত্রের ধারা ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর নির্বাচনের এখনো আগের ধারাবাহিকতায় চলছে।
৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত প্রমাণ হয়েছিল—ইতিহাস বিকৃতি করে জাতিকে ধ্বংস করা যায় না। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত বৃথা যায় না। বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলা যায় না। জনগণ একদিন ঠিকই জবাব দেবে।
লেখক- সরদার সেলিম রেজা, কবি ও পরিবেশ কর্মী, সভাপতি: বাংলাদেশ ইতিহাস ঐতিহ্য কেন্দ্র।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au