বাংলা-ইতিহাসসহ ৬ বিষয়ের অনার্স বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি
মেলবোর্ন, ৯ জুন- বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ কয়েকটি বিষয়ের অনার্স কোর্স বন্ধ হতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত…
মেলবোর্ন, ৯ জুন- রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার চিন্তা একসময় করলেও দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও শেখ হাসিনা। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, দেশের মানুষের সংকটময় সময়ে তাদের পাশে থাকাই এখন তাঁর প্রধান দায়িত্ব।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, একসময় ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভেবেছিলেন। তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় অবসরের চিন্তা আর সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছেন। আজ আমার দলের নেতা-কর্মীরা নির্যাতনের শিকার, অনেকে কারাগারে, অনেকে ঘরছাড়া। দেশের মানুষ নানা সংকটে আছে। এই অবস্থায় আমি কীভাবে বিশ্রামে যাই?”
বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও রাজনৈতিক অধিকার সংকুচিত হয়েছে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণের পাশে থাকা তাঁর নৈতিক দায়িত্ব।
ক্ষমতায় ফেরার আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাই তাঁকে সক্রিয় রাজনীতিতে রেখেছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতা চাই না। কিন্তু জনগণের প্রতি আমার দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারি না।”
দলীয় নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কোনো পারিবারিক উত্তরাধিকার নয়। দলের কাউন্সিল, কর্মীদের মতামত এবং যোগ্যতা, ত্যাগ ও আদর্শের ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।
দলের পুনর্গঠন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ বর্তমানে একটি ‘স্বাভাবিক শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যারা আদর্শের জন্য রাজনীতি করেন, তারা কঠিন সময়েও দলের পাশে রয়েছেন। অন্যদিকে সুবিধাবাদীরা সরে গেছেন বা নীরব হয়ে পড়েছেন। এতে দল দুর্বল হয়নি, বরং আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তরুণ নেতৃত্বের প্রসঙ্গেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এলে নতুন কাউন্সিলের মাধ্যমে তরুণ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বকে সামনে আনা হবে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে অতীতেও কেউ মুছে ফেলতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। জনগণের শক্তিকে সঙ্গে নিয়েই তিনি দেশে ফিরবেন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে শেখ হাসিনার এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে অবসরের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে থাকার ঘোষণা আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au