‘সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান’— এনসিপি আসলে কী চাইছে?
ভাস্কর দত্ত : শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে জনগণকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।…
মেলবোর্ন, ১২ জুন- ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানায়, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই ইরানের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
ট্রাম্পের দাবি, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা অবকাঠামো এবং অন্যান্য সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতার বড় অংশ ইতোমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, ভবিষ্যতে খার্গ দ্বীপ এবং ইরানের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় অনুসৃত নীতির মতো ইরানের জ্বালানি সম্পদের ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হতে পারে।

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ। ছবিঃ সংগৃহীত
খার্গ দ্বীপ ইরানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে দ্বীপটি ইরানের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎসগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থাপনাগুলোর একটি। সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নৌ-মাইন এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এমন একটি স্থাপনা দখলের চেষ্টা করা হলে তা বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে এবং এর জন্য বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন প্রয়োজন হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে। মঙ্গলবার প্রথম দফা হামলার পর বুধবার রাতেও ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বোমা হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। এর পরপরই ট্রাম্প খার্গ দ্বীপ দখলের হুমকি দিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: ডেইলি মেইল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au