মার্কিন অর্থমন্ত্রী। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট: কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট বলেন, তার বিশ্বাস আজ অথবা আগামীকালের মধ্যেই এমন একটি চুক্তি হতে পারে, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি আবারও স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে। তিনি বলেন, এর ফলে সাম্প্রতিক সংঘাত ও অস্থিরতা অনেকটাই প্রশমিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরানকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে কোনো ধরনের টোল বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বেসেন্ট বলেন, আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। তার ভাষায়, এই সমঝোতা কার্যকর হলে সব দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ বাধাহীনভাবে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে শত শত তেলবাহী ও বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালির আশপাশে অপেক্ষা করছিল। তবে ইতোমধ্যে কিছু জাহাজ চলাচল শুরু করেছে, যা পরিস্থিতির উন্নতির ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রণালি পুরোপুরি চালু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং তেলের দামও ধীরে ধীরে কমে আসবে। এতে বিশ্ব অর্থনীতি ও ভোক্তারা উপকৃত হবেন।
অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পররাষ্ট্র দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। তিনি জানান, উভয় পক্ষ দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমে এলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তেল ও গ্যাস পরিবহন স্বাভাবিক হলে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে তৈরি হওয়া সরবরাহ সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
সূত্র: আল জাজিরা