মেলবোর্ন, ১৩ জুন- ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজনকে ঘিরে সম্ভাব্য সব ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশটির ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
ওকভিউ গ্রুপের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মাইকেল ডাউনিং বলেছেন, বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত উন্নত ও বহুস্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। তার ভাষায়, এটি শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইভেন্ট।
স্কাই নিউজ অস্ট্রেলিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাইকেল ডাউনিং বলেন, স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় অত্যাধুনিক সেন্সর প্রযুক্তি, কড়া পরিধি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং যানবাহন ব্যবহার করে হামলার মতো হুমকি প্রতিরোধে বিশেষ নিরাপত্তা অবকাঠামো স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি জানান, সম্ভাব্য হামলা, নাশকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রতিটি ভেন্যুর প্রবেশপথে কঠোর তল্লাশি, নজরদারি ক্যামেরা এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্টেডিয়াম ও জনসমাগমস্থলে সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নিরাপত্তা সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।
মাইকেল ডাউনিং বলেন, “এটি একটি বিশাল জাতীয় নিরাপত্তা ইভেন্ট। এখানে শুধু দর্শকদের নিরাপত্তাই নয়, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদল, খেলোয়াড়, কর্মকর্তা এবং অবকাঠামোর নিরাপত্তাও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।”
বিশ্বকাপ ২০২৬ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। তবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। এজন্য দেশটির বিভিন্ন শহরে লাখো দর্শক এবং হাজারো বিদেশি অতিথির সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজন সন্ত্রাসবাদ, সাইবার হামলা, জননিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এ কারণে আয়োজক দেশগুলো আগেভাগেই সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে স্টেডিয়াম, পরিবহন ব্যবস্থা, বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির সমন্বিত ব্যবহার করা হবে।
আয়োজকদের আশা, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশ্বকাপজুড়ে খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য একটি নিরাপদ ও আনন্দমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।