নিখোঁজের দুই দিন পর বুড়িগঙ্গায় মিলল জাবি শিক্ষার্থী দ্বীপের মরদেহ
মেলবোর্ন,১৫ জুন- দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবার, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে…
মেলবোর্ন, ১৪ জুন- গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বিরল ধরনের ‘বুন্ডিবুগিও’ প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস, টিকার অনুপস্থিতি, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল এবং মানুষের স্থানচ্যুতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের প্রাদুর্ভাব আগের অনেকগুলোর তুলনায় বেশি চ্যালেঞ্জিং। কারণ এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। একই সঙ্গে রোগটির কেন্দ্রস্থল পূর্ব কঙ্গোর এমন এলাকায়, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত চলছে।
ইবোলা একটি প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত ফলখেকো বাদুড়সহ বিভিন্ন বন্য প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। সংক্রমণের দুই থেকে ২১ দিনের মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, পেশিতে ব্যথা, বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। গুরুতর অবস্থায় রোগীর যকৃত ও কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে, এমনকি অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণও হতে পারে।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলা সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল এক দশকেরও বেশি সময় আগে। ২০০৭ ও ২০১২ সালে উগান্ডায় এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হয়েছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রজাতির মৃত্যুহার প্রায় ৩৩ শতাংশ, যা জাইরে ও সুদান প্রজাতির ইবোলার তুলনায় কিছুটা কম।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ১০ জুন পর্যন্ত কঙ্গোতে ৬৩৫ জনের ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ১২৭ জন। মৃতদের মধ্যে পাঁচজন স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন। অন্যদিকে ৩০ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ইতুরি প্রদেশ। সেখানকার বুনিয়া ও মংগবওয়ালু শহরে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর কিভু ও দক্ষিণ কিভুতেও রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেশী উগান্ডায়ও ইবোলায় দুইজনের মৃত্যুর পাশাপাশি ১৯টি সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে।
কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল রজার কাম্বা জানিয়েছেন, প্রথম শনাক্ত রোগী ছিলেন একজন নার্স, যিনি ২৪ এপ্রিল অসুস্থ হন। পরে তার মৃত্যু হয়। ওই নার্সের মরদেহ নিজ এলাকায় নেওয়া হলে শেষকৃত্যে অংশ নেওয়া বহু মানুষ সংস্পর্শে আসেন, যা সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় অনেক মানুষ ইবোলাকে ‘জাদুবিদ্যা’ বা ‘অলৌকিক রোগ’ বলে বিশ্বাস করায় তারা হাসপাতালের বদলে ওঝা কিংবা প্রার্থনাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে যান। এতে রোগ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে বিলম্ব হয়েছে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে চলমান সংঘাত। পূর্ব কঙ্গোর বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন হতে থাকায় চিকিৎসা দলগুলো অনেক সময় আক্রান্ত অঞ্চলে পৌঁছাতে পারছে না। খারাপ সড়ক যোগাযোগও বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
চিকিৎসা সহায়তা জোরদারে কঙ্গো সরকার ইতুরিতে চারটি বিশেষ পরীক্ষাগার স্থাপন করেছে। এখন ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরীক্ষার ফল পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি সংক্রমিতদের শনাক্তকরণ, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসাকেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।
এ পর্যন্ত প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও প্রায় ৩৯ লাখ ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন ৩১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাও প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা আশ্বস্ত করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি কোভিড-১৯ মহামারির শুরুর সময়ের মতো নয়। ইবোলা অত্যন্ত সংক্রামক হলেও এটি সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শে ছড়ায়। ফলে মধ্য ও পূর্ব আফ্রিকার বাইরে ব্যাপক বৈশ্বিক সংক্রমণের ঝুঁকি বর্তমানে খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au