হায়দ্রাবাদে আটক সাত বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে ভারত
মেলবোর্ন, ১৫ জুন- ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দ্রাবাদে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে সাত বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে…
মেলবোর্ন, ১৫ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, সামরিক সংঘাত এবং পারস্পরিক হামলা-পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দুই দেশের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দেন।
এরপর ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের ১৪টি মূল বিষয় প্রকাশ করে। যদিও এসব শর্ত এখনো যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
মেহর নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সমঝোতার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধ করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ কমিয়ে আনা।
১. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি
চুক্তি অনুযায়ী লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে। এর ফলে ইসরায়েল, লেবানন এবং অন্যান্য আঞ্চলিক পক্ষগুলোর মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
২. ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেবে। দীর্ঘদিন ধরে ইরানের অন্যতম প্রধান অভিযোগ ছিল বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ।
৩. ৩০ দিনের মধ্যে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার
ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র যে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে, তা ৩০ দিনের মধ্যে তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
৪. ইরানসংলগ্ন অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার
চুক্তির আওতায় ইরানের চারপাশে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনী ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়া হবে।
৫. হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ইরানের ব্যবস্থাপনায় ৩০ দিনের মধ্যে পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। এতে আন্তর্জাতিক তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার পথ তৈরি হবে।
৬. ইরানের পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো ইরানের অর্থনীতি ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি সহায়তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে।
৭. তেল ও জ্বালানি খাতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
ইরানের তেল, গ্যাস ও জ্বালানি পণ্যের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। এতে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের স্বস্তি পেতে পারে।
৮. পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতি
ইরান আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।
৯. নতুন নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার অঙ্গীকার
যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেবে।
১০. অঞ্চলে নতুন সামরিক শক্তি মোতায়েন না করা
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো বা নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের মতো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে যুক্তরাষ্ট্র।
১১. জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা
নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও তহবিল ধাপে ধাপে মুক্ত করে দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
১২. চূড়ান্ত চুক্তির আগে অর্থনৈতিক শর্ত বাস্তবায়ন
ইরানের দাবি অনুযায়ী তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং আটকে থাকা সম্পদের একটি বড় অংশ ছাড় না করা পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ চুক্তি কার্যকর হবে না।
১৩. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন
চূড়ান্ত সমঝোতা বাস্তবায়নের আগে তা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে।
১৪. দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠন
চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য একটি নতুন কাঠামো তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করার অনুমতি দিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তেল পরিবহন আবারও নির্বিঘ্নে চলবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
পরবর্তী এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর আগে বহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও সফল হননি। তিনি বলেন, এই সমঝোতা পুরো অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
চুক্তির খবর প্রকাশের পর ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দেশটির ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই সমঝোতাকে ইসরায়েলের জন্য কৌশলগত ও রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখছে।
তাদের আশঙ্কা, এই চুক্তির ফলে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সীমিত বা বন্ধ করতে হতে পারে। একই সঙ্গে ইরান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করবে, যা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির বিষয়গুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হলেও যদি এসব শর্ত বাস্তবায়িত হয়, তাহলে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সমঝোতা। এর ফলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কেই পরিবর্তন আসবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au