ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের উত্তরে শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত
মেলবোর্ন,৩০ জুন- গত সপ্তাহের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও শক্তিশালী আফটারশকে কেঁপে উঠেছে ভেনেজুয়েলা। সোমবার (২৯ জুন) ভোরে অনুভূত এই ভূমিকম্প-পরবর্তী কম্পনে রাজধানী…
মেলবোর্ন,৩০ জুন- তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। একই সঙ্গে প্রকল্পটি নিয়ে ভারতের উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় বেইজিং স্পষ্ট জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতা কোনো তৃতীয় দেশকে লক্ষ্য করে নয় এবং এ ধরনের সহযোগিতা বাইরের কোনো প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং এ প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
গুও জিয়াকুন বলেন, “বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়। এই সহযোগিতা তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বা প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত।”
তিনি আরও জানান, অর্থনীতি, বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনকল্যাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় জোরদার করতে আগ্রহী চীন। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও আরও বিস্তৃত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। কারণ, তিস্তা নদীর অববাহিকা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের কাছ দিয়ে প্রবাহিত। ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত এই করিডরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একমাত্র স্থল যোগাযোগ পথ। ফলে ওই অঞ্চলে চীনের উপস্থিতি বা প্রভাব বৃদ্ধি ভারতের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে নয়াদিল্লি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, তিস্তা প্রকল্পের কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে সমীক্ষা পরিচালনা করবেন।
তিনি বলেন, “এ বিষয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। আগে এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ ছিল না। সমীক্ষার ফল ইতিবাচক হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সম্মত হয়েছে চীন।”
বাংলাদেশ ও চীন ইতোমধ্যে তিস্তাসহ দেশের বিভিন্ন নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, নদী পুনরুদ্ধার এবং পানি সম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যৌথ সমীক্ষা সফল হলে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে।
অন্যদিকে প্রকল্পটির অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। কারণ তিস্তা অববাহিকায় যেকোনো বড় অবকাঠামোগত উন্নয়ন দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি) এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়না তিস্তা প্রকল্প-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ বাড়িয়ে নতুন একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়।
সুত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au