মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের মধ্যে বিমসটেক (BIMSTEC) সম্মেলনের ফাঁকে কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে না বলে নিশ্চিত করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩ এপ্রিল ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনের সময় মোদি কেবলমাত্র থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন শিনাওয়াত্রার সঙ্গে বৈঠক করবেন। দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করবেন বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মোদি-ইউনুস বৈঠকের অনুরোধ জানানো হলেও এ ধরনের কোনো আলোচনা পরিকল্পনায় নেই। তবে দুই নেতার মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতা হতে পারে বলে সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
অগাস্ট ২০২৪ সালে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইউনুস ও মোদির মধ্যে সরাসরি কোনো বৈঠক হয়নি। যদিও মোদি তাকে দায়িত্ব গ্রহণের পর এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছিলেন, তবে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনো হয়নি।
বাংলাদেশের প্রথম সফর পরিকল্পনা ও ভারতের সংযত অবস্থান
সম্প্রতি ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকাকে ইউনুসের প্রেস সচিব জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ইউনুসের প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে ভারত সফরের পরিকল্পনা ছিল, তবে এ বিষয়ে ভারত থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া মেলেনি। ফলে বিমসটেক সম্মেলনে মোদি-ইউনুস বৈঠক না হওয়ার বিষয়টি ভারতের বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সংযত অবস্থানকেই ইঙ্গিত করছে।
বিমসটেক সম্মেলন ও আঞ্চলিক উদ্বেগ
ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংযোগ ও নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা হবে। সম্মেলন শেষে বাংলাদেশ সংস্থাটির সভাপতিত্ব গ্রহণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, মোদি ও ইউনুসের একমঞ্চে উপস্থিতি চীনের প্রস্তাবিত মেদোগ জলবিদ্যুৎ বাঁধ (Medog hydropower dam) নিয়ে আঞ্চলিক উদ্বেগের মধ্যে আসছে। তিব্বতের ব্রহ্মপুত্র নদে এই প্রকল্প নিয়ে ভারত তার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং চীনকে আহ্বান জানিয়েছে যাতে নিম্নাঞ্চলীয় দেশগুলোর স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “নিম্নাঞ্চলীয় দেশ হিসেবে আমাদের নির্ধারিত অধিকার রয়েছে, এবং চীনের নদীগুলোতে মেগা প্রকল্প নিয়ে আমরা বারবার আমাদের উদ্বেগ জানিয়ে আসছি। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব এবং আমাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।”
বাংলাদেশও চীনের কাছে এই বাঁধের পরিবেশ ও অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় গত মাসে বেইজিংকে একটি চিঠি পাঠিয়ে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA) ও দুর্যোগ প্রভাব সমীক্ষাসহ মূল নথিগুলো চেয়েছে, তবে এখনো কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেদোগ বাঁধের মাধ্যমে চীন ব্রহ্মপুত্র নদীর পানির প্রবাহের উপর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে, যা বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় অঞ্চলের ক্ষতির কারণ হতে পারে। ভারতও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কারণ এই বাঁধের ফলে আসাম ও অরুণাচল প্রদেশে বন্যা ও খরার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au