মেলবোর্ন, ৪ জুলাই- অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই হত্যাকাণ্ডের বিভৎস ভিডিও অনলাইনে রাখা নিয়ে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এর সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট। তার অভিযোগ, প্ল্যাটফর্মটি ওই ভিডিও সরানোর পরিবর্তে সেটিকে একটি ‘গোর সিনেমার’ দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করে অনলাইনে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার রয়্যাল কমিশন অন অ্যান্টিসেমিটিজম অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন-এ সাক্ষ্য দিতে গিয়ে জুলি ইনম্যান গ্রান্ট বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতিকর ও সহিংস কনটেন্ট অপসারণের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তার মতে, এমন কনটেন্ট কয়েক মিনিটের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যেতে পারে, ফলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, বন্ডাই হত্যাকাণ্ডের পর নিহতদের মরদেহসংবলিত ভিডিওকে অস্ট্রেলিয়ায় নিষিদ্ধ ‘রিফিউজড ক্লাসিফিকেশন (আরসি)’ হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য তার দপ্তর এক্সের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে। এই শ্রেণিভুক্ত কোনো কনটেন্ট অস্ট্রেলিয়ায় প্রকাশ, বিতরণ বা শেয়ার করা আইনত নিষিদ্ধ।
জুলি ইনম্যান গ্রান্টের ভাষ্য অনুযায়ী, এক্সের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ভিডিওটি কোনো গোর সিনেমার দৃশ্যের চেয়ে বেশি ভয়াবহ নয়। তবে তিনি সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, নিহতদের স্বজন এবং অস্ট্রেলিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের জন্য এর চেয়ে বেদনাদায়ক ও ভয়াবহ আর কিছু হতে পারে না। শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে এক্সকে ভিডিওটি সরাতে রাজি করানো সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় আপত্তিকর কনটেন্ট অপসারণে অনীহা দেখায়। বরং তারা অস্ট্রেলিয়ার ক্লাসিফিকেশন বোর্ডের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করে, যার ফলে অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিলম্ব ঘটে।
সাক্ষ্যে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর হাতে এখন বিপুল প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলেও তাদের নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দুর্বল। তার মতে, এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এদিকে একই শুনানিতে অস্ট্রেলিয়ান জিউইশ কাউন্সিলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও মানবাধিকার আইনজীবী সারাহ শোয়ার্টজ জানান, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিদ্বেষ, অপমানজনক মন্তব্য ও হুমকির মুখে পড়েছেন।
তিনি বলেন, ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা করলেই অনেক ইহুদিকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বা ‘নিজ জাতির শত্রু’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এতে ভিন্নমত পোষণকারী বহু ইহুদি প্রকাশ্যে মত প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছেন। তার মতে, এই পরিস্থিতি শুধু মতপ্রকাশের স্বাধীনতাই ক্ষুণ্ন করছে না, বরং ইহুদি পরিচয় ও ইসরায়েল রাষ্ট্রকে এক করে দেখার প্রবণতাও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
রয়্যাল কমিশনের শুনানিতে অনলাইন বিদ্বেষ, ইহুদিবিদ্বেষ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়বদ্ধতা এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ নীতির কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। কমিশনের পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।