মেলবোর্ন, ১৫ জুলাই- লিবিয়ার পূর্ব উপকূলের কাছে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবোঝাই একটি কাঠের নৌকা ডুবে অন্তত ৫০ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই নিখোঁজদের সন্ধানে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থার জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। লিবিয়ার দুটি নিরাপত্তা সূত্র জানায়, নৌকাটি মিসরের সীমান্তসংলগ্ন তবরুক শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে এল-বারদা দ্বীপের কাছে ভূমধ্যসাগরে ডুবে যায়।
নিরাপত্তা সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে মোট প্রায় ৬০ জন অভিবাসী ছিলেন। তাদের মধ্যে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্তত ৫০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে উপকূলরক্ষী বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল সমুদ্রজুড়ে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
জীবিত উদ্ধার হওয়া অভিবাসীরা জানিয়েছেন, ভোরের দিকে নৌকাটি যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু যাত্রার কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ডুবে যায়। নৌকায় থাকা যাত্রীরা সবাই সাব-সাহারা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্র। নিরাপত্তাজনিত কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করেননি।
এদিকে, এর মাত্র একদিন আগে একই এলাকায় আরেকটি উদ্ধার অভিযানে চারজন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে লিবিয়ার জলসীমায় ভেসে থাকা একটি নৌকা থেকে আরও ২৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ওই নৌকায় মোট ২৮ জন অভিবাসী ছিলেন বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্র।
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে আটকে থাকায় তারা চরম মানবিক সংকটে পড়েন। খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে চারজনের মৃত্যু হয়। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগর বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন রুটে পরিণত হয়েছে। ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে লিবিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা সংকট সৃষ্টি হয়। সেই সুযোগে মানবপাচারকারী চক্রগুলো দেশটিকে ইউরোপগামী অভিবাসীদের প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছে।
সংঘাত, দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সহিংসতা থেকে বাঁচতে সাব-সাহারা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের হাজারো মানুষ প্রতি বছর মরুভূমি পেরিয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান। এরপর ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর অতিক্রম করে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে নিরাপত্তাহীন এই যাত্রায় প্রতিবছর শত শত অভিবাসী প্রাণ হারান বা নিখোঁজ হন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসেও তবরুকের উপকূলের কাছে আরেকটি নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ২৬ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করেছিল লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনা আবারও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া অভিবাসীদের জীবনঝুঁকি এবং মানবপাচার সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে।
সুত্রঃ রয়টার্স