কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন, কী জানা যাচ্ছে?
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় আছেন বলে কিছু…
মেলবোর্ন, ২৬ জুলাই: উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত নতুন স্টুডেন্ট ভিসা নীতিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মাস্টার্স, পিএইচডি ও গবেষণা ভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রস্তাবিত নীতিতে স্টুডেন্ট ভিসা ব্যবস্থায় বেশ কয়েকটি পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, অনেক ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের পরিবর্তে স্টুডেন্ট ভিসার সর্বোচ্চ মেয়াদ চার বছরে সীমিত করার প্রস্তাব।
এ ছাড়া ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ (Duration of Status) ব্যবস্থাতেও পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা বৈধভাবে কোর্স সম্পন্ন করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে চার বছর পূর্ণ হওয়ার পর, কোর্স চলমান থাকলেও অতিরিক্ত সময়ের জন্য নতুন অনুমোদন নিতে হবে। ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসছে। আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেজিগনেটেড স্কুল অফিসিয়াল (DSO) প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করে সময় বাড়ানোর অনুমোদন দিতে পারতেন। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের সরাসরি মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অধীন ইউএসসিআইএস (USCIS)-এর কাছে আবেদন করতে হবে। সরকারি অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত সময়ের এক দিনও বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা যাবে না।
পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের জন্য বর্তমানে ৬০ দিনের যে গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে, নতুন প্রস্তাবে তা কমিয়ে ৩০ দিনে আনার কথা বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নীতির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে মাস্টার্স, পিএইচডি এবং গবেষণাভিত্তিক উচ্চ শিক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর। কারণ, অনেক পিএইচডি গবেষণা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে চলতে পারে। সে ক্ষেত্রে চার বছর পর সরকারের কাছে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে এবং অনুমোদন সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
এমনকি বর্তমানে পাঁচ বছরের স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরাও নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সংশোধিত ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারেন।
তবে অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়ম মেনে পড়াশোনা করা প্রকৃত শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। মার্কিন ইমিগ্রেশন আইনজীবীদের ভাষ্য, যারা নিয়মিত ক্লাস, গবেষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করবেন, তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের জটিলতা হওয়ার সম্ভাবনা কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতির মূল লক্ষ্য স্টুডেন্ট ভিসার অপব্যবহার রোধ করা। অনেকেই পড়াশোনার পরিবর্তে পূর্ণকালীন কাজ করা বা বারবার প্রতিষ্ঠান ও কোর্স পরিবর্তনের মাধ্যমে বৈধ অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করেন। নতুন নিয়ম মূলত এমন অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আনতেই প্রস্তাব করা হয়েছে।
পড়াশোনা শেষে অপটিক্যাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, স্টেম (STEM) বিষয়ের শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ তিন বছর এবং নন-স্টেম বিষয়ের শিক্ষার্থীরা এক বছর পর্যন্ত কাজের সুযোগ পাবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক কারণও রয়েছে। তবে অতীতের মতো এই নীতিও আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ফলে এটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যারা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন, তাদের নতুন ভিসা নীতির অগ্রগতি, সময়সীমা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট রাখা উচিত। এতে ভবিষ্যতে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au