নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া ছররা গুলিতে আহত এক তরুণকে দেখাচ্ছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ২৪ জুলাই ২০২৬, নয়াদিল্লিছবি: বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের ভিডিও থেকে নেওয়া
মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: শিক্ষার্থীদের সংসদ অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ছররা গুলি (পেলেট) ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে চলা বিতর্কে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ)-এর এক সদস্য অন্তত সাতটি পেলেট গুলি ছুড়েছিলেন। তবে কী নির্দেশে এই গুলি ছোড়া হয়েছিল, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আধা সামরিক বাহিনী সিআরপিএফের (CRPF) প্রাথমিক তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তে দেখা গেছে, ছোড়া সাতটি পেলেটের মধ্যে দুটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও পাঁচটি আন্দোলনকারীদের গায়ে লাগে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি সিআরপিএফ।
শিক্ষার্থী বিক্ষোভে আহতদের শরীরে পেলেটের চিহ্ন পাওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী আহত এক আন্দোলনকারীকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন এবং দাবি করেন, এমন আরও অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও আহতদের ছবি ও সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে।
এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তিনি জানতে চেয়েছেন, আন্দোলনকারীদের ওপর কেন পেলেট গুলি চালানো হলো এবং এ নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়েছিলেন কি না।
চিঠিতে তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যদি অমিত শাহ এ নির্দেশ না দিয়ে থাকেন, তাহলে কে দিয়েছিলেন? এছাড়া পুলিশের সঙ্গে থাকা সাদা পোশাকের ব্যক্তিরা কারা ছিলেন এবং তারা কোন কর্তৃত্বে আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ ও হামলা চালিয়েছেন, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি। রাহুল রোববার ওই চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করেন।
এর আগে বিরোধী দলগুলো শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে বিবৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল।পেলেট ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর দিল্লি পুলিশ জানায়, তারা কোনো পেলেটগান ব্যবহার করেনি। এরপর গুলি কারা ছুড়েছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। পরে সিআরপিএফ বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়।
এদিকে আন্দোলন শেষে শিক্ষার্থীরা যন্তর মন্তর ছেড়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গেলেও বিভিন্ন রাজ্যে তাদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠছে। পাশাপাশি আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে পোস্ট করা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এ বিষয়ে একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে নোটিশ পাঠিয়ে কিছু পোস্ট ও ভিডিও সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রনেতারা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা ও এফআইআর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং এ বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিলেও পুলিশ জানিয়েছে, এখনো এ সংক্রান্ত কোনো সরকারি নির্দেশ তাদের কাছে পৌঁছায়নি।
এদিকে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে আন্দোলন থেকে ফেরা দুই শিক্ষার্থীকে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু বীর সেনা-র এক নেতার চড় মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা ছিল। তবে বর্তমান ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ না পাওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের বিনা মূল্যে খাবার বিতরণ করায় পুলিশ পরিচয়ধারী কয়েকজন তাকে আটক করে মুসৌরিতে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।