হাজার বছরের মাটি ও মানুষ
মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই: একটি জাতি টিকে থাকে তার মাটি, নদী আর মানুষের শেকড়ে। বাংলাদেশের বয়স মাত্র ৫৫ বছর। কিন্তু এই ভূমি আর মানুষের ইতিহাস হাজার বছরের।…
মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারসহ ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় মারধরের শিকার তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থী মো. আনাস ও মাহমুদুল হাসানকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে মতিহার থানা পুলিশ। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সংস্কৃত বিভাগের এক ছাত্রীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রথমে প্রক্টর কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আবার আলোচনা চলাকালে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন নেতা আনাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। এ সময় তাঁর মুঠোফোনে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তোলা ছবি দেখিয়ে তাঁকে মারধরের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাকসু ভবনে সংঘর্ষের পর আনাস, মাহমুদুল হাসান ও তাঁদের আরেক সহপাঠী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে আশ্রয় নিলে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা সেখানে প্রবেশ করে তাঁদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালান। হামলা ঠেকাতে এগিয়ে আসা কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থীও আহত হন। এমনকি আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও তাঁদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

আম্মারসহ ছাত্রশিবিরের গ্রেফতারের ঘটনায় কি জানা যাচ্ছে
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ঘটনাটিকে ‘মব’ হামলা আখ্যা দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের মতো স্থানে প্রকাশ্যে হামলার ঘটনা শিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সংগঠনটি রাকসু ভবনে হামলা ও শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, উভয় ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলও পৃথক কর্মসূচি পালন করে হামলায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। তারা দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী যেন এ ধরনের হামলার শিকার না হন, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্তে একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি হামলার অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সব বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au