মাত্র ২০ মিনিটে ৭ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল দুবাই।
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট: সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের জেবেল আলি শিল্প এলাকায় মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে টানা সাতটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোররাতের দিকে সংঘটিত এই বিস্ফোরণে পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পর বন্দর এলাকার আকাশ ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল বাহিনী, পুলিশ ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণের আগে তারা ভবন কেঁপে ওঠার মতো শক্তিশালী কম্পন অনুভব করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই গুদাম এলাকায় আগুনের বিশাল শিখা দেখা যায় এবং একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শোনা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতেও আগুনের গোলা আকাশে ছিটকে উঠতে এবং ঘন ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ঢেকে যেতে দেখা গেছে।
ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী জেবেল আলি শিল্প এলাকার চারপাশ ঘিরে ফেলে এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে জরুরি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন এমন ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে দমকলের গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স নির্বিঘ্নে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চালাতে পারে।
জেবেল আলি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন কেন্দ্র। এই বন্দরের মাধ্যমে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। ফলে এই এলাকায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা বা নিরাপত্তা সংকট শুধু সংযুক্ত আরব আমিরাত নয়, বরং পুরো পশ্চিম এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। তবে প্রাথমিক কিছু অনিশ্চিত গোয়েন্দা তথ্য ও আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ও পরিবহন অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার কোনো হামলার ফল হতে পারে। যদিও এ ধরনের দাবির সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান নিরাপত্তা উত্তেজনার মধ্যেই এই বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গোটা অঞ্চলে নিরাপত্তা সতর্কতা আগেই জোরদার করা হয়েছিল।
দুবাইয়ে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি, ভারতীয় এবং অন্যান্য বিদেশি কর্মী বসবাস করেন। তাদের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ জেবেল আলি মুক্ত বাণিজ্য এলাকা, সমুদ্র পরিবহন, গুদামজাতকরণ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত। ফলে এই ঘটনার পর প্রবাসীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি বা অন্য বিদেশি নাগরিক হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
দুবাই কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের জেবেল আলি ও আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছে এবং জানিয়েছে, বিস্ফোরণের কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ঘটনার প্রকৃত উৎস নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।